মাস খানেক আগের ঘটনা। জেলাস্তরের প্রশাসনিক বৈঠকে একটি বেহাল রাস্তার প্রসঙ্গ ওঠে। খোঁজ পড়ে এক পূর্ত-কর্তার। কিন্তু সে দিন তিনি অনুপস্থিত। সে দিনই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক। সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি বলেছিলেন, বৈঠকের গুরুত্বই বুঝতে পারছেন না কেউ কেউ!
প্রশাসন সূত্রে খবর, শুধু ওই বৈঠকই নয়। জেলাস্তরের প্রায় প্রতিটি প্রশাসনিক বৈঠকে পদস্থ কর্তাদের একাংশ গরহাজির থাকেন। কেউ আবার প্রতিনিধি পাঠিয়ে দায়িত্ব সারেন। কিন্তু সেই প্রতিনিধির কাছে হয়তো সংশ্লিষ্ট দফতরের সমস্ত খুঁটিনাটি থাকছে না। ফলে, বৈঠকে কোনও সমস্যার দ্রুত তার সমাধান সম্ভব হচ্ছে না।
পরিস্থিতি দেখে জেলার প্রায় সমস্ত সরকারি দফতরে কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা। প্রশাসন সূত্রে খবর, চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে না-জানিয়ে জেলার কোনও বৈঠকে গরহাজির থাকা যাবে না। কোনও বৈঠকে আসতে না-পারলে আগে থেকে জানাতে হবে। চিঠি পাঠানো হয়েছে অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিডিওদের দফতরে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রোজেক্ট ডিরেক্টরদের দফতরেও চিঠি গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই চিঠি নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি জেলাশাসক। তবে জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “বৈঠকের ব্যাপারে সকলকেই সমান সচেতন হতে হবে! বিশেষ করে জেলাস্তরের বৈঠকের ব্যাপারে। কোনও একটি ব্লক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অথচ, সেই ব্লকের বিডিওই বৈঠকে নেই! তাহলে আলোচনা এগোবে কী করে!”
জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, কোনও কোনও বৈঠকে আধিকারিকদের হাজিরার হার কম থাকে। ফলে, চাইলেও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হয় না। জেলার এক বিডিওর বক্তব্য, “জেলায় মাঝেমধ্যেই বৈঠক থাকে। কোনও কোনও সপ্তাহে তিন-চারটি বৈঠকও থাকে। বৈঠকগুলোয় হাজির থাকা উচিত। তবে ব্লকের কাজের চাপে সব বৈঠকে হয়তো হাজির থাকা সম্ভব হয় না!” ওই বিডিও-র আশ্বাস, “নির্দেশিকা পেয়েছি। এ বার জেলার সব বৈঠকে হাজির থাকার চেষ্টা করব!”
জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা অবশ্য বলেন, “এটা একেবারেই প্রশাসনিক ব্যাপার। তবে এটা ঠিক, কেউ কেউ সব বৈঠককে সমান গুরুত্ব দেন না! দিলে একাধিক বৈঠক এড়িয়ে চলতেন না!”