West Bengal Elections 2026

যুব-মনে কোন রং, সব দলই জল মাপছে

রাজনৈতিক মহল মনে করাচ্ছে, যুব ভোটার যেহেতু অনেকটা, তাই কোথাও কোথাও যুব-ভোট জয়-পরাজয়ের নির্ণায়ক হতে পারে। তাই সব দলেরই নজর যুব-মন জয়ে।

বরুণ দে

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৩
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

মেদিনীপুরে তৃণমূলের দেওয়াল লিখন, ‘যুবসাথী পাই, তৃণমূলকে চাই।’ শালবনির দেওয়ালে সাঁটানো বিজেপির ফ্লেক্সে লেখা, ‘বয়ফ্রেন্ড চাকরি পাচ্ছে না? বয়ফ্রেন্ড না বদলে, সরকার বদলান।’ কেশপুরে বাম-প্রচারপত্রে বার্তা, ‘বেকার যুবকেরা যাতে কাজ করে ও চাকরি পায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে।’

পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোটারদের একটা বড় অংশই যুবক-যুবতী। সেই যুব-মন কার দিকে, প্রচারের শেষ লগ্নে জল মাপছে যুযুধান সব পক্ষই। ভোট ঘোষণার আগে ‘যুবসাথী’ নামে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল তৃণমূল সরকার। এতে মাসে মেলে দেড় হাজার টাকা ভাতা। পাল্টা ‘যুবশক্তি’ কার্ডের ঘোষণা করেছে বিজেপি। নির্বাচনী ইস্তাহারে যুবদের মাসে তিন হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। বিজেপি জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে তারা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করবে। রবিবার বেলদার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তৃণমূলকে দুষে বলেছেন, ‘‘আপনাদের ভাগের কাজ তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের দিচ্ছে। তৃণমূলের এই ডাকাতি বিজেপি বন্ধ করবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।’’

রাজনৈতিক মহল মনে করাচ্ছে, যুব ভোটার যেহেতু অনেকটা, তাই কোথাও কোথাও যুব-ভোট জয়-পরাজয়ের নির্ণায়ক হতে পারে। তাই সব দলেরই নজর যুব-মন জয়ে। পশ্চিম মেদিনীপুরে এখন ভোটার রয়েছে প্রায় ৩৭ লক্ষ ৭০ হাজার। এসআইআর শুরুর আগে ছিল প্রায় ৪০ লক্ষ ১৩ হাজার। জেলায় যুব-ভোটার রয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। সূত্রের খবর, এর মধ্যে প্রায় ০.৫৩ শতাংশ ভোটার ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি। এঁরা প্রথম ভোট দেবেন। প্রায় ১৪.৬৯ শতাংশ ভোটার ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সি। প্রায় ১৬.৮৮ শতাংশ ভোটার ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সি। এই জেলায় ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি ভোটার রয়েছে প্রায় ২৮ হাজার।

অনেকের মতে, প্রত্যাবর্তনের জন্য যুব-মন পাওয়া প্রয়োজন বুঝেই তৃণমূল সরকার ভোট ঘোষণার আগে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করে। প্রকল্প চালুও করে দেয়। অবশ্য ২০১৩ সালে ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পও চালু করেছিল তারা। সেটিও ছিল আসলে বেকার ভাতা। পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে প্রায় তিন লক্ষ আবেদন এসেছিল। বিরোধীদের মতে, তৃণমূল আমলে কর্মসংস্থান কতটা বেহাল, এই সংখ্যাতেই তা স্পষ্ট। বেলদার দেওয়ালে ছবি এঁকেছে বিজেপি। বাবার পা ধরে ছেলের আকুতি, ‘কথা দাও, আমার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তুমি তৃণমূলকে ভোট দেবে না।’

তৃণমূলের পাল্টা দাবি, দেশে যখন বেকারত্ব বেড়েছে, তখন বাংলায় বেকারত্ব কমেছে। যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি নির্মাল্য চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘আমাদের রাজ্যে বেকারত্ব অনেকই কমেছে। বাম আমলে অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের সরকারের সময়ে নতুন নতুন কলকারখানা তৈরি হয়েছে। বেকার যুবক-যুবতীদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে সহজ ঋণ এবং সরকারি ভর্তুকির সুবিধা।’’ তাঁর দাবি, ‘কর্মসাথী’ প্রকল্পে অনেক বেকার যুবক-যুবতীর সহজ ঋণের ব্যবস্থা হয়েছে। ছোট ব্যবসা শুরু করতে কারিগরি প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।’’ জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাসের কথায়, ‘‘এ রাজ্যে বেকারত্বের হার অনেক বেশি। গ্রামের থেকে শহরে বেকারত্বের হার আরও বেশি। নতুন শিল্প বা কারখানা, কিছুই হয়নি তৃণমূলের আমলে।’’

ভাতা-বিরোধিতা বা ভাতা-নির্ভরতা নয়, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের কথা বলছে বামেরা। ডেবরায় দলের প্রার্থী সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফের জেলা সম্পাদক সুমিত অধিকারীর কথায়, ‘‘সরকারের ঘোষিত কর্মসূচিতেই প্রমাণিত, সরকার কাজ দিতে ব্যর্থ। বিজেপিও ফাঁপা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বলেছিল, বছরে দু’কোটি চাকরি দেবে।’’ তাঁর মতে, উল্লেখযোগ্য শিল্পায়ন না হলে কাজের চাহিদা মেটানো কঠিন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন