BJP

গেরুয়া শিবিরে ভাঙনের শঙ্কা

সূত্রের খবর, হাড়দা পঞ্চায়েতে স্ত্রীকে সামনে রেখে রাজেশ একচ্ছত্র ছড়ি ঘোরাচ্ছেন বলে দলের অন্দরে অভিযোগ তোলেন বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২১ ০৫:৩৩
Share:

শ্যালক-ভগ্নিপতির অহি-নকুল সম্পর্কের অবসান হচ্ছে। তার তাতেই ভাঙনের শঙ্কা ঝাড়গ্রামের গেরুয়া শিবিরে।

Advertisement

শ্যালক রাজেশ মণ্ডল বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলা সম্পাদক। তাঁর ভগ্নিপতি সিন্টু সাহা তৃণমূলের হাড়দা অঞ্চল সভাপতি। গত পাঁচ বছরে এঁদের তিক্ততার জের বার বার শিরোনামে এসেছে। সিন্টু-বাহিনীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হয়ে কারাবাসও করেছেন রাজেশ। সেই রাজেশই সপার্ষদ তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। সব ঠিকঠাক এগোলে কিছুদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজেশ-সহ বিজেপির কয়েকজন নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং কয়েকশো কর্মী তৃণমূলে যোগ দেবেন।

রাজেশের স্ত্রী ঝুমা মণ্ডল বিজেপি পরিচালিত হাড়দা পঞ্চায়েতের প্রধান। পরিস্থিতি আঁচ করে প্রধান পদ থেকে ঝুমাকে সরাতে অনাস্থা আনার তোড়জোড় শুরু করেছেন বিজেপির কিছু সদস্য। তবে বিডিও ছুটিতে থাকায় চিঠি জমা পড়েনি। বেলপাহাড়ির বিডিও বরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘কয়েকজন সদস্য প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থার চিঠি দিতে চেয়েছেন। আমি ফিরে তাঁদের সঙ্গে কথা বলব। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতো পদক্ষেপ হবে।’’

Advertisement

দলবদলের কথা মানছেন রাজেশ। বলছেন, ‘‘সম্মান নিয়ে রাজনীতিটা করি। সেই সম্মানে আঁচ লাগলে বসে থাকা সম্ভব নয়। তাই পুরনো দলেই ফিরব সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ আর সিন্টুর বক্তব্য, ‘‘বিভিন্ন লোক ইন্ধন দিয়েই আমার আর রাজেশের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট করেছিল। ভুল বোঝাবুঝি মিটেছে। সপার্ষদ রাজেশের তৃণমূলে যোগ দেওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।’’জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মুও মানছেন, ‘‘শুধু রাজেশ নন, জেলার আরও বেশ কয়েকজন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন বিজেপি নেতা-নেত্রীরা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন।’’

সিন্টুর স্ত্রীর জেঠতুতো দাদা রাজেশ আগে ছিলেন তৃণমূলের হাড়দা-১ বুথ সভাপতি। গত পঞ্চায়েত ভোটের বছর দেড়েক আগে বিজেপিতে যোগ দেন রাজেশ। জেলা সম্পাদকের পদ পান। ২০১৮-র ভোটে হাড়দা গ্রাম পঞ্চায়েত বিরোধীশূন্য করে দখল নেয় বিজেপি। প্রধান হন রাজেশের স্ত্রী ঝুমা। রাজেশও বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হন। লোকসভা ভোটে হাড়দায় ২৩০০ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এ জন্য রাজেশ দলে প্রশংসিতও হন। কিন্তু এ বার বিধানসভা ভোটে হাড়দার ২০টি বুথের মধ্যে ১৩টিতে বিজেপি পিছিয়ে থাকায় দলের একাংশের তোপের মুখে পড়েন রাজেশ। ভোটের পরে কিছুদিন হাড়দা পঞ্চায়েত কার্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সংগঠনের রাশ আলগা হওয়ায় দলের অন্দরে সমালোচিত হওয়ায় অপমানিত রাজেশ দল বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানাচ্ছেন।

সূত্রের খবর, হাড়দা পঞ্চায়েতে স্ত্রীকে সামনে রেখে রাজেশ একচ্ছত্র ছড়ি ঘোরাচ্ছেন বলে দলের অন্দরে অভিযোগ তোলেন বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ। সেই সূত্রে রাজেশ এখন কার্যত কোণঠাসা। শনিবার বিকেলে রাজেশ ঝাড়গ্রামে বিজেপি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। এ দিন সেখানে বৈঠকে এসেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাতে রাজেশ বলেন, ‘‘দলকে শেষ কথা জানাতে গিয়েছিলাম।’’ রাজেশের দল ত্যাগের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে শুভেন্দুর অবশ্য প্রতিক্রিয়া, ‘‘ওঁর কোনও গুরুত্ব নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement