—প্রতীকী চিত্র।
গাড়ির বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ করে দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তায় তৈরি করা হয় ‘স্পিড ব্রেকার’ বা বাম্পার বা হাম্প। দুর্ঘটনা এড়ানোর এই মাধ্যমই শিল্পশহর এবং রাজ্য সড়কের বিভিন্ন এলাকায় দুর্ঘটনার কারণ! অভিযোগ, কোথাও অবৈজ্ঞানিক ভাবে বানানো হয়েছে বাম্পার। আবার কোথাও বাম্পারে নেই ‘রিফ্লেক্টার’ বা রং। এর ফলে চালকেরা বুঝতে না বাম্পারে ধাক্কা খেয়ে অনেক সময় বেসামাল হয়ে পড়েছেন। ঘটছে দুর্ঘটনাও।
স্থানীয় সূত্রের খবর, হলদিয়া টাউনশিপ থেকে ক্ষুদিরাম নগর (হলদিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ) পর্যন্ত শহরের শাখা রাস্তায় অন্তত ৪৪টি এবং দুর্গাচক থেকে চৈতন্যপুর পর্যন্ত রাস্তায় ৫৮টি বাম্পার রয়েছে। শতাধিক বাম্পার রয়েছে হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়কেও। অভিযোগ, এদের অধিকাংশই অবৈজ্ঞানিক ভাবে নির্মিত। কোনটাতে আবার সাদা রং, ‘রিফ্লেকটিভ মার্কিং’ নেই। আবার কিছুতে শুরুতে তা থাকলেও, এখন তা মুছে গিয়েছে। ফলে রাতে বা অন্ধকারে বাম্পারগুলি চালকেরা দেখতে পান না।
গত ২৫ জানুয়ারি হলদিয়া সেন্টিনারী পার্কের সামনে হঠাৎ করে একটি নতুন বড়সড় আকারের বাম্পার তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনও রং বা মার্কিং দেওয়া হয়নি। ফলে রাস্তায় পিচের কালো রংয়ে ওই বাম্পার বুঝতে না পেরে হলদিয়া রিফাইনারির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী অসীম রঞ্জন মাইতি সম্প্রতি মোটরবাইক দুর্ঘটনার শিকার হন। তিনি হেলমেট পরে থাকলেও চোট পান। তাঁকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অসীমের এক সহকর্মী সুদীপ অগস্তি বলেন, ‘‘হলদিয়ায় বাম্পারের জন্যই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে। নতুন বাম্পারেও চুন দেওয়া হয়নি, ফলে অসীমবাবু দেখতে পাননি।’’ শিল্প শহরের স্থানীয় বাসিন্দা সুজয় মাইতি, সন্দীপন মুর্মুরা বলছেন, “মোড়ে মোড়ে বাম্পার। আমরা জানি কোথায় আছে, তবুও দুর্ঘটনা ঘটছে। বাইরে থেকে আসা চালকদের তো বোঝাই সম্ভব নয়। আইন অনুযায়ী পিচের উপরে বাম্পার তৈরি করা যায় না, নিয়ম লঙ্ঘন হচ্ছে।”
এই বাম্পারগুলি শুধু দুর্ঘটনার কারণ নয়, যানবাহনের ক্ষতিও করছে বলে দাবি। এগুলির জন্য প্রতি গাড়িতে সাত-আট লিটার অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয়। এ ছাড়া, গাড়ির সাসপেনশন, শক অ্যাবজর্বার, টায়ার-সহ নানা যন্ত্রাংশেরও ক্ষয় হয় দ্রুত। পূর্ব মেদিনীপুর ‘ইউনিফায়েড বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনে’র সম্পাদক শিবপ্রসাদ বেরা বলেন, “পথ নিরাপত্তার বৈঠকে পূর্বতন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝির কাছে একাধিকবার বাম্পার বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। পূর্ত দফতর অবৈজ্ঞানিক ভাবে, নিয়ম না মেনে বাম্পার তৈরি করেছে। এতে গাড়িরও ক্ষতি হচ্ছে।”
এ ব্যাপারে পূর্ব মেদিনীপুরের আরটিও আধিকারিক সঞ্জয় হালদার বলেন, “শীঘ্রই হলদিয়ায় অভিযান চালাব। বাম্পারগুলির বিষয়টি দেখব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেব।’’ হলদিয়ার মহকুমাশাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাসও বলছেন, “হলদিয়ায় অবৈজ্ঞানিকভাবে একাধিক বাম্পার রয়েছে। বহু জায়গায় মার্কিং নেই বলে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে