—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
কেন্দ্র অথবা রাজ্য সরকারের আবাস প্রকল্পে পাওয়া অর্থ সহায়তার নথি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে নির্বাচন কমিশনের ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অভিযোগ করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথি গ্রহণ করা হচ্ছে। অথচ তার ভিত্তিতে পাওয়া সরকারি আর্থিক সহায়তার নথি গ্রহণ না করার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সেই সঙ্গেই শুনানি শেষ হয়ে যাওয়ার দু’দিন পরে এই সিদ্ধান্ত জানানোর পিছনেও বিপুল সংখ্যক ‘বৈধ’ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ‘চক্রান্ত’ রয়েছে বলেই দাবি শাসক দলের।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকার ও শাসক তৃণমূলের সংঘাত ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো সিদ্ধান্ত সোমবার তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এ দিন বলেন, ‘‘কমিশনের তরফে ভোটার হিসেবে আবেদনের জন্য জমি অথবা বাড়ি বরাদ্দের সরকারি নথি গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু ওই জমিতে ‘আবাস’ প্রকল্পের সাহায্য পাওয়ার নথি গ্রহণ করা হবে না। এর কারণ কী?’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘কেন্দ্রের ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ বা রাজ্য সরকারের ‘বাংলার বাড়ি প্রকল্পে’র অর্থ সাহায্য দেওয়া হয় জমির নথির ভিত্তিতেই। জমির নথি গ্রহণ করলেও রাজ্যের মানুষকে বিপদে ফেলতেই আর্থিক সাহায্যের নথি না-নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’
এই নির্দেশিকার সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘আশ্চর্যের বিষয়, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এ ব্যাপারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন গত ২১ জানুয়ারি। আর তার উত্তর এল, শুনানির শেষ হয়ে যাওয়ার এত দিন পরে, ১৬ ফেব্রুয়ারি!’’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এটা কেন হবে? কাউকে কোনও সুযোগ না-দিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে ডাকাতি করা হবে বলেই শুনানি শেষের পরে এই সিদ্ধান্ত জানানো হল?’’
আবাস যোজনার নথি গ্রহণ না-করার প্রসঙ্গে এ দিন মালদহে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার অবশ্য বলেছেন, ‘‘এসআইআর-এর মূল যে বিষয়, তা কমিশন ঠিক করে। একটা আইনের বলে। এই আইনে কেবলমাত্র ভারতীয়েরা ভোটাধিকার পান। আবাসের নথি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।’’
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও কমিশনের এই নির্দেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘কমিশন নথি নিয়ে নির্দেশিকা দিয়েছিল ঠিকই। তবে তা নিয়ে রাজ্যের সিইও-র তা নিয়ে ধন্দ ছিল বলেই তিনি জানতে চেয়েছিলেন। ভোটার তালিকা নিয়ে তো প্রশ্ন আছেই। এটা ন্যায্য অধিকার রক্ষার নয়, মনগড়া কারও নাম কেটে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে! এটা স্পষ্ট যে, বিজেপির হয়ে কমিশন কাজ করছে। সেই কারণে মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে।’’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘এই হেনস্থা যেমন কমিশন করেছে, তেমনই রাজ্য প্রশাসনও তা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করেনি।’’
কমিশনের এ দিনের নির্দেশে গ্রহণযোগ্য হিসেবে আগের নির্দিষ্ট করা নথির কথাই জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গেই এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অংশও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে যে, আবাসের শংসাপত্র নথি হিসেবে কমিশনের এই সংক্রান্ত নির্দেশিকায় না-থাকা সত্ত্বেও শুধু সেই নথি কেউ দিলে কেন তা এত দিন নেওয়া হল? ১৩টি নথির অন্য কোনও নথিও দেওয়ার কথা বলা যেত। এখন আরও কারও দেওয়া নথি সংশোধনের সুযোগ নেই! চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘আবাসের অর্থ সাহায্যের প্রমাণ তো জমি বা বাড়ি সংক্রান্ত নথির থেকেও স্পষ্ট ও যুক্তিগ্রাহ্য।’’ চন্দ্রিমা ও কুণালের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলেন, ভোটারের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিতবাহী ( ‘ইন্ডিকেটিভ’) নথিই যথেষ্ট। অথচ শুধু একটি রাজনৈতিক দলের চাপে একমাত্র এ রাজ্যেই এই নিয়ম জারি করা হয়েছে!
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে