Murder

স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ! প্রতিবেশীকে খুনের অপরাধে ঝাড়গ্রামে যাবজ্জীবন প্রবীণের

বিনোদের সন্দেহ ছিল, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী বিহারী মুর্মুর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। সেই নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি চলছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ২১:২৯
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে সন্দেহে প্রতিবেশীকে খুনের অপরাধে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল ঝাড়গ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারক অরবিন্দ মিশ্র এই রায় ঘোষণা করেন। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির নাম বিনোদ হাঁসদা। খুনের পাশাপাশি তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অপরাধেও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

Advertisement

সরকারি আইনজীবী প্রবীর পাল জানান, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে সন্দেহে পরিকল্পিত ভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল এবং আদালতে তা প্রমাণিত হয়েছে। সেই ভিত্তিতেই বিচারক বিনোদ হাঁসদাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর। বিনোদের সন্দেহ ছিল, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী বিহারী মুর্মুর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। সেই নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি চলছিল।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে বিনোদের বাড়িতে যান বিহারী। তার পরে আর বিহারী নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলেও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। দু’দিন পর, ১১ নভেম্বর সকালে ঝাড়গ্রাম থানার সাপধরা এলাকার আঁধারিশোল গ্রামে একটি ধানক্ষেত থেকে বিহারীর দেহ উদ্ধার হয়।

ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ওই দিনই ঝাড়গ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের দাদা চামরু মুর্মু। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে ওই দিনই আঁধারিশোল গ্রাম থেকে বিনোদকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় ধৃতের বয়স ছিল ৫০ বছর।

তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্তকারী অফিসার ঝাড়গ্রাম এসিজেএম আদালতে চার্জশিট পেশ করেন। পরে ২০১৬ সালে মামলাটি ঝাড়গ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হয়।

বিচার চলাকালীন তদন্তকারী অফিসার-সহ মোট ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং সওয়াল-জবাব খতিয়ে দেখে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছোয় যে, বিনোদ হাঁসদা পরিকল্পিত ভাবে ঠান্ডা মাথায় বিহারীকে খুন করেছেন। সেই কারণে তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement