নারায়ণগড়ের বিধায়ক সূর্য অট্ট।
রাজ্য-রাজনীতিতে ‘কু-কথা’র প্রয়োগ এবং ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। সাম্প্রতিক সময়ে নানাবিধ ‘কু-মন্তব্য’ করে বিতর্কে জড়িয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। সেই তালিকায় এ বার নতুন সংযোজন শাসক দলের আর এক নেতা। বাড়িতে ঢুকলে বিজেপি নেতাদের ঝাঁটা মেরে তাড়ানোর নিদান দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের বিধায়ক সূর্য অট্ট। তা নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরা। ‘কু-কথা’ রাজনীতিই তৃণমূলের সংস্কৃতি বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। শাসকদলের অবশ্য বক্তব্য, বিজেপি নেতারাও এই ধরনের শব্দ প্রয়োগ করে থাকেন। আর শাসকদলের বিধায়ক দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে গিয়ে ওই মন্তব্য করে থাকতে পারেন বলে দাবি করেছেন জেলা নেতৃত্ব।
রবিবার বিকেলে নারায়ণগড় বিধানসভার কুনারপুরে একটি বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হয়। ওই সভায় যোগ দেন সূর্য। ১০০ দিনের কাজের টাকা বাংলাকে না দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘‘১০০ দিনের কাজ করলে সংবিধান অনুযায়ী আপনার টাকা পাওয়ার কথা। আমি কাজ করলে আমার টাকা পাওয়ার কথা। গুজরাত টাকা পাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ পাচ্ছে। বাংলা কেন পাবেন না?’’ এর পরেই তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘বিজেপির কেউ বাড়িতে এলে ঝাঁটা মেরে বিদায় করুন। এ রাজ্যে কোনও ভাবেই বিজেপিকে আসতে দেওয়া যাবে না। রুখে দিতে হবে।’’
বিধায়কের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি অরূপ দাস বলেন, ‘‘এটাই তো তৃণমূলের সংস্কৃতি। নতুন তো কিছু নেই। আমরা তো দীর্ঘ দিন ধরেই বলে আসছি। খুনি, চোর, ডাকাত, ধর্ষক, বর্বরদের নিয়ে এই দলটা চলছে। ওই দলের বিধায়কের মুখে ভাষা এ রকম তো হবেই।’’
তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা অবশ্য বলছেন, ‘‘বিভিন্ন মানুষের ধরনের কথা বলার ধরন ভিন্ন। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। বিজেপির নেতারাও এমন মন্তব্য করেন। ক’দিন আগেই বেলদায় দিলীপ ঘোষ বুকে পা তুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তৃণমূল বিধায়ক হয়তো দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে এমন মন্তব্য করেছেন। তবে বিষয়টি জেনেই তবে বলতে পারব।’’
১০০ দিনের কাজের টাকা অন্য রাজ্যকে পাঠানো হলেও বাংলাকে বঞ্চনা করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ করেছেন শাসকদলের বিধায়ক, তারও জবাব দিয়েছেন বিজেপির জেলা সহ সভাপতি। অরূপের বক্তব্য, ‘‘কেন্দ্র টাকা পাঠালে ওই টাকা দিয়ে মেলা-খেলা মোচ্ছব করা হচ্ছে। হিসাবও দেওয়া হচ্ছে না। তা হলে কী করে হবে!’’