Suvendu Adhikari

পান্তা খাওয়া ছেলেটাই মুখ্যমন্ত্রী

বাড়ির ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় গ্রামের বাড়ির পরিজনেরা সব স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন। এ দিন কুলবেদতা রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে বিশেষ পুজো হয়েছে।

গোপাল পাত্র, কেশব মান্না

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৮:২৯
Share:

ভবানীচকের পৈতৃক বাড়ি।

এগরার মাধবসানকিবাড় গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৈতৃক বাড়ি। এখানেই তাঁর বাবা শিশির অধিকারী ও তাঁর ভাই-বোনেরা বড়ো হয়েছেন। শুভেন্দুর জন্মের আগেই অবশ্য শিশির ব্যবসার কারণে কাঁথির ভাড়া বাড়িতে চলে আসেন। তবে গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। শুভেন্দু ও তাঁর দাদা-ভাইদের উপনয়নও হয়েছে এই গ্রামের বাড়িতেই।

বাড়ির ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় গ্রামের বাড়ির পরিজনেরা সব স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন। এ দিন কুলবেদতা রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে বিশেষ পুজো হয়েছে। বড় কাকিমা ৭৪ বছরের বৃদ্ধা কবিতা অধিকারী জানালেন, কৈশোরে শুভেন্দু এসে জেঠা, কাকাদের সঙ্গে পুকুরে মাছ ধরতেন। পেয়ারা ও খেজুর গাছে গাছে উঠে ফল পেড়ে খেতেন। আর খাওয়ার পাতে পছন্দ ছিল শাক ভাজা ও মৌরলা মাছের টক দিয়ে পান্তাভাত। ‘‘ভাই-বোনেদের সঙ্গে ও খুব দুষ্টুমিও করত’’, জানালেন কবিতা।

তিনি আরও বললেন, ‘‘গ্রামের বাড়িতে দিব্যেন্দুর বিয়ের সময় শুভেন্দুকেও বিয়ের জন্য বলেছিলাম। কিন্তু ও বলল, ‘আমি সর্বক্ষণ রাজনীতি করি। বিয়ে করব না’। সেই রাজনীতিই আজ ওকে এখানে পৌঁছে দিয়েছে। ভীষণ গর্ব হচ্ছে।’’ কবিতা জানালেন, দুধ ও ঘি খেতেও ভালবাসেন শুভেন্দু। এগরার গ্রামের বাড়ি থেকে দুধ যায় কাঁথির বাড়িতে। যায় গাছের নারকেল আর আমও। শান্তিকুঞ্জের জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় গ্রামে পরিজনেরা সব যান। পুজোর ফুল, দূর্বাও গ্রামের এই বাড়ি থেকেই কাঁথিতে যায়।

দু'বছর আগে ভবানীচকে একটি ক্লাবের সরস্বতী পুজোয় আসার পথে গ্রামের বাড়িতে ঢুকেছিলেন শুভেন্দু। কবিতা বলেন, ‘‘সে দিন সবার খোঁজ নিয়েছিল। ছোটবেলা থেকে ও খুব জেদি। বাড়িতে এলে পান্তা খাবেই। আমাদের বুবাই খুব পরিশ্রমী। গোটা রাজ্যের মানুষের ও ভাল করবে, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’’

কাঁথিতে ‘শান্তিকুঞ্জ’-এর অদূরে ‘ব্রজনাথ ভবন’-এ শুভেন্দুর জন্ম। এই বাড়িতেই দীর্ঘ দিন ভাড়া ছিলেন শিশির। বাড়ির মালিক চিত্তরঞ্জন মহাপাত্র প্রয়াত হয়েছেন। তবে শুভেন্দুর সাফল্য খুশি চিত্তরঞ্জনের দুই ছেলে শুদ্ধসুন্দর, চিত্ত সুন্দর আর মেয়ে শ্রীলেখা শী। ওঁদের কাছে শুভেন্দু ‘বুবাই’ নামেই পরিচিত।শ্রীলেখা বলেন, ‘‘বুবাই একটু লাজুক ছিল। আর টুকটুকে ফর্সা। ছোটবেলায় বাড়ির পাশে অনুকূল ঠাকুরের আশ্রমে গিয়ে বসে থাকত। আর বাড়িতে রোজ ঠাকুরের পুজো করত।’’ চিত্তসুন্দর জুড়লেন, ‘‘একসঙ্গে অনেক খেলেছি। বুবাইদা কিন্তু খেলাতেও নেতৃত্ব দিতেন। যারা হেরে যেত প্রথমে তাদের বকুনি দিতেন। পরে আবার সন্দেশ খাইয়ে দিতেন।’’

এই বাড়িতেই শিশিরের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রণব মুখোপাধ্যায় থেকে গনি খান চৌধুরী। আর সেই বাড়িতে জন্মানো ছেলেই আজ বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন