জল নেই জেনেই ছুটলেন পুরপ্রধান

শপথ নেওয়ার দু’দিনের মধ্যেই রাস্তায় নামলেন নতুন পুরপ্রধান। শনিবার থেকেই খড়্গপুরের একাংশে নলবাহিত জল সরবরাহে সমস্যা হয়। তা জেনে রবিবার নতুন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার ঝরিয়ায় পৌঁছন। সঙ্গে ছিলেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস চৌধুরী, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের স্বামী প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপেন্দু পাল। শহরের নতুন জলপ্রকল্প সম্পর্কে খোঁজ নেন প্রদীপবাবু। পুর নাগরিকেরা জল পেয়েছেন কি না দেখতে বিকেলে ফের এলাকা ঘুরে দেখেন পুরপ্রধান।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০১৫ ০০:১৪
Share:

শপথ নেওয়ার দু’দিনের মধ্যেই রাস্তায় নামলেন নতুন পুরপ্রধান। শনিবার থেকেই খড়্গপুরের একাংশে নলবাহিত জল সরবরাহে সমস্যা হয়। তা জেনে রবিবার নতুন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার ঝরিয়ায় পৌঁছন। সঙ্গে ছিলেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস চৌধুরী, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের স্বামী প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপেন্দু পাল। শহরের নতুন জলপ্রকল্প সম্পর্কে খোঁজ নেন প্রদীপবাবু। পুর নাগরিকেরা জল পেয়েছেন কি না দেখতে বিকেলে ফের এলাকা ঘুরে দেখেন পুরপ্রধান।

Advertisement

খড়্গপুরে জলসঙ্কট দীর্ঘদিনের। এ বারও পুর-নির্বাচনের প্রচারে এই সমস্যাকে হাতিয়ার করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ১৯৯৯ সালে ২ মেগা গ্যালন জল সরবরাহ করতে শহরে প্রথম জলপ্রকল্প গড়া হয়। তবে এখন চাহিদা পৌঁছেছে দিনে সাড়ে ৩ মেগা গ্যালনে। চাহিদা পূরণে ২০১০ সালে প্রায় ৮৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে কেন্দ্র। সে বছরই পুরসভায় ক্ষমতায় এসে তৃণমূল বরাদ্দ করা টাকায় জলপ্রকল্পের কাজ শুরু করে। সাড়ে তিন বছর পরে অনাস্থা ভোটে জিতে ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস। এখনও পর্যন্ত তিনটি পর্যায়ে পুর-কর্তৃপক্ষ ৩২ কোটি টাকা পেয়েছেন। তৃণমূল বোর্ড ৭ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা খরচ করেছিল। এখনও ১৬কোটি টাকা পড়ে আছে। শনিবার থেকে শহরের উত্তর-পশ্চিম দিকে রাজগ্রাম, বিধানপল্লি, কুমোরপাড়া, মালঞ্চ, নিমপুরা এলাকায় জলসঙ্কট চরমে পৌঁছয়। রবিবার সকাল পর্যন্ত ওই এলাকার বাসিন্দারা জল পাননি। প্রাথমিক ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেন স্থানীয় কাউন্সিলরেরা। কিন্তু সমস্যা না মেটায় এ দিন পুরপ্রধান প্রদীপবাবু ঝরিয়ায় প্রথম জলপ্রকল্প দেখতে যান। সেখানে গিয়ে জানা যায়, নিয়মমাফিকই জল সরবরাহ হচ্ছে। পরে জানা যায়, মুম্বই রোডের ধারে জল পাইপের দু’টি অংশ ফেটে গিয়েছে। তার জেরেই জল সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত পাইপ মেরামতের নির্দেশ দেন প্রদীপবাবু। দ্বিতীয় জলপ্রকল্পের কাজ কত দূর এগিয়েছে তাও খুঁটিনাটি জেনে নেন। বিকেলের মধ্যেই জল সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাসও দেন তিনি। পরে প্রদীপবাবু বলেন, “শনিবার থেকে কয়েকটি ওয়ার্ডের মানুষ জল পাচ্ছেন না বলছিলেন। তাই ঝরিয়ার জলপ্রকল্প দেখলাম। পাইপ মেরামতি হয়ে যাওয়ায় আর সমস্যা নেই।”

শহরের সামগ্রিক জলসঙ্কট মেটানোর আশ্বাসও দেন নতুন পুরপ্রধান। তাঁর বক্তব্য, “নতুন জলপ্রকল্পের কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পে টাকার অভাব হবে না। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার টাকা দিতে রাজি রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পুরসভায় বৈঠক ডেকে এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।” প্রাথমিকভাবে পুরনো জলপ্রকল্প সংস্কার হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement