আশুতোষ মারান্ডি। -নিজস্ব চিত্র
পেস-স্পিনের জোড়া ফলাও ভোঁতা তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কাছে। বছর তেরোর আশুতোষ মারাণ্ডি-র ঝোড়ো ইনিংসে কুপোকাৎ বিপক্ষ দল। সিএবি-র অনূর্ধ্ব-১৩ বাংলা দলে ঠাঁই পেয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছে খড়্গপুরের এই আদিবাসী কিশোরটি।
খড়্গপুর ও ঝাড়গ্রামের মাঠে দু’জন কোচের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত অনুশীলন করে আশুতোষ। সিএবি-র অনূর্ধ্ব-১৩ বাংলা দলের ১৭জনের তালিকায় ৮ নম্বরে রয়েছে আশুতোষের নাম। আশুতোষের বাবা বৈধর মারাণ্ডি আরপিএফ কর্মী। তাদের আদি বাড়ি ওড়িশায়। তবে কর্মসূত্রে বৈধরবাবু সপরিবারে থাকেন খড়্গপুরের মথুরাকাটি এলাকায় রেলের আবাসনে।
খড়্গপুরে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে আশুতোষ। আশুতোষের প্রিয় খেলোয়াড় রাহুল দ্রাবিড়। ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখে সে। খড়্গপুরের আরএন দত্ত মেমোরিয়াল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির কোচ ছোটন দত্তর কাছে ছোট বয়সে আশুতোষের ক্রিকেটে হাতেখড়ি। চলতি মরসুমে হাওড়া ও রবীন্দ্র সরোবরে দু’টি প্রদর্শনী ম্যাচে ঝাড়গ্রাম দুরন্ত ক্রিকেট অ্যাকাডেমির হয়ে ভাল পারফরম্যান্স করে আশুতোষ।
গত নভেম্বরে হাওড়া স্বামীজি সঙ্ঘের সঙ্গে দুরন্ত ক্রিকেট অ্যাকাডেমির খেলায় ৯২ রান করে আশুতোষ। ওই মাসেই রবীন্দ্র সরোবরে অশোক মলহোত্র ক্রিকেট অ্যাকাডেমির সঙ্গে ম্যাচে সে ৭৪ রান করে। গত বছর সিএবি-র অম্বর রায় মেমোরিয়াল ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও ঝাড়গ্রামের একটি ক্রিকেট দলের হয়ে খেলে নজর কাড়ে আশুতোষ।
এ বার সিএবি-র বাংলা দলে জায়গা পেয়ে খুশি রেলশহরের কিশোর। আশুতোষের কথায়, ‘‘সিএবি-র দলে সুযোগ পাওয়ার পরে এখন যাদবপুরে (চিংড়িহাটা) সিএবি কোচদের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করছি।’’ তবে খড়্গপুরে থাকলে সকাল ও বিকেল দু’বেলা আরএন দত্ত মেমোরিয়াল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির কোচ ছোটন দত্ত-র তত্ত্বাবধানেই অনুশীলন করে সে। এ ছাড়া শনি ও রবিবার ঝাড়গ্রামে দুরন্ত ক্রিকেট অ্যাকাডেমির কোচ তাপসকুমার দাসের তত্ত্বাবধানে চলে অনুশীলনপর্ব।
আশুতোষের দুই কোচ ছোটন দত্ত ও তাপসকুমার দাসের কথায়, “আশুতোষ ক্রিজে দাঁড়ালে ওকে আউট করা মুশকিল। এই সাফল্যের জন্য আশুতোষ নিজে প্রচুর পরিশ্রম ও অনুশীলন করেছে। পাশাপাশি, আশুতোষের অভিভাবকরাও ওকে নিয়মিত উৎসাহ জুগিয়ে গিয়েছেন।”