মেদিনীপুর মেডিক্যালে অসুস্থ যশবীর
রাতে লোডশেডিং থাকায় ঘরের মধ্যেই মিনি জেনারেটর চালিয়ে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন রেবিকা বর্মা। বন্ধ ছিল ঘরের দরজা-জানালাও। পেশায় ঠিকাদার রেবিকাদেবীকে বুধবার সকালে কয়েকজন শ্রমিক ডাকতে আসেন। অনেক ডাকাডাকির পরও তাঁর সাড়া না পাওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে যায় শ্রমিকেরা। ঘরে ঢুকে তারা দেখেন, বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে রেবিকাদেবীর ছেলে যশবীর বর্মা, রাজ বর্মা ও মেয়ে এলিজা বর্মা। পাশেই পড়ে রয়েছে ৩৫ বছর বয়সী রেবিকাদেবীর নিথর দেহ। দোতলা বাড়িতে জেনারেটরের গ্যাসের গন্ধে টেকা দায়। বুধবার ভোরে খড়্গপুরের কলাইকুণ্ডার গাইদুয়া গ্রামের এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। অসুস্থদের প্রথমে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই রেবিকাদেবীর মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান। বাকি তিনজনকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মেদিনীপুর মেডিক্যালে যাওয়ার পথেই বছর আটের রাজের মৃত্যু হয়। বাকি দু’জন বছর দশের যশবীর ও ১৩ বছর বয়সী এলিজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রেবিকাদেবীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, বদ্ধ ঘরে জেনারেটরের গ্যাস থেকেই রেবিকাদেবীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। যদিও ঘটনা ঘিরে রহস্য দানা বাঁধছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা রেবিকাদেবীর স্বামী একটি ব্যাঙ্কের ম্যানেজার। কর্মসূত্রে তিনি ভিন্ রাজ্যে থাকেন। রেবিকাদেবীও ঠিকাদারের কাজ করেন। মঙ্গলবার রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর তিন সন্তানকে নিয়ে ঘুমোতে যান তিনি। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। রাতে লোডশেডিং হওয়ায় ঘরের মধ্যেই চলছিল মিনি জেনারেটর। স্থানীয় বাসিন্দা সুরেশকুমার নায়ার বলেন, “ওঁদের বাড়িতে কাচের জানালা-দরজা থাকায় হাওয়া চলাচলের জায়গা নেই। রাতে ঘরেই জেনারেটর চলছিল। সকালে শ্রমিকেরা আসার পরে এমন ঘটনা দেখে আমরা বিস্মিত। জেনারেটরের গ্যাস থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘মঙ্গলবার রাতে এলাকার সকলের বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল। তা সত্ত্বেও কেন ওনার বাড়িতে জেনারেটর চলছিল, সেটা বুঝতে পারছি না।’’
তবে এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ চারজনের মুখ থেকেই গ্যাঁজলা বের হতে দেখা গিয়েছে। সাধারণত বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হলেই গ্যাঁজলা বের হতে দেখা যায়। তাহলে এ ক্ষেত্রে কেন গ্যাঁজলা বের হচ্ছিল এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশকে। মৃতদেহগুলি ময়না-তদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, রেবিকাদেবী ঠিকাদার হওয়ায় অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ঘটনার
তদন্ত চলছে।
খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, “সাধারণত বিষক্রিয়ায় মুখ থেকে গ্যাঁজলা বের হতে দেখা যায়। তবে অনেক সময়ে অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হওয়ায় শ্বাসনালী রুদ্ধ হয়ে গেলেও এক ধরনের তরল শ্বাসনালী থেকে নিঃসৃত হয়ে গ্যাঁজলা হিসেবে বেরিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কী হয়েছে সেটা ময়না-তদন্তের পরই বলা যাবে।” ঘটনায় মৃতার পরিজনেদের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। এ দিন মেদিনীপুর মেডিক্যালে সাংবাদিকদের সামনে মৃতার ভাই সৌমেন ঘোষ বলেন, “দিদিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে আমি ওঁদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমি শুনেছি বাড়িতে জেনারেটর চলছিল। জেনারেটরের গ্যাস থেকেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।”