ভর্তির পরীক্ষায় নারাজ, প্রতিবাদ অভিভাবকদের

এতদিন ঝাড়গ্রাম একলব্য আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয়ে নিয়ম ছিল সরাসরি ভর্তির। সম্প্রতি স্কুলের দায়িত্ব রামকৃষ্ণ মিশনের কাছে হস্তান্তরের পর সেই নিয়মে বদল এসেছে। স্কুলে সর্বপ্রথম অ্যাডমিশন টেস্ট চালু হচ্ছে। আর তাতেই বেঁকে বসেছেন অভিভাবকরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০০:১৫
Share:

ঝাড়গ্রাম একলব্য আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয়।

এতদিন ঝাড়গ্রাম একলব্য আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয়ে নিয়ম ছিল সরাসরি ভর্তির। সম্প্রতি স্কুলের দায়িত্ব রামকৃষ্ণ মিশনের কাছে হস্তান্তরের পর সেই নিয়মে বদল এসেছে। স্কুলে সর্বপ্রথম অ্যাডমিশন টেস্ট চালু হচ্ছে। আর তাতেই বেঁকে বসেছেন অভিভাবকরা।

Advertisement

আজ, রবিবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ৬০টি আসনের জন্য পরীক্ষা দেবে ৮৩ জন ছাত্রছাত্রী। এ ব্যাপারে অবশ্য তীব্র আপত্তি জানিয়ে এদিনই আন্দোলনে নামছেন অভিভাবক ও একাধিক আদিবাসী সংগঠনের নেতৃত্ব। আজ, স্কুলের বাইরে অভিভাবকরা প্রতিবাদী মৌন জমায়েত করার ডাক দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত দাবি-সনদ পাঠিয়ে তাঁর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অভিভাবকরা।

মাস দেড়েক আগে পুরোদস্তুর আদিবাসী এই স্কুলটির পরিচালন ভার রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রামকৃষ্ণ মিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরে স্কুলটির সার্বিক চেহারাই বদলে গিয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তনে খুশি নন, সাঁওতাল সমাজের একাংশ। কারণ, মিশন কর্তৃপক্ষ স্কুলের দায়িত্ব নেওয়ার পরে স্কুলে সরাসরি ভর্তির প্রক্রিয়াটি বাতিল করে দিয়েছে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর। রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর পরিচালিত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের এই আবাসিক স্কুলটিতে সরকারি খরচে ৩৬০ জন আদিবাসী ছাত্রছাত্রী হস্টেলে থেকে পড়াশুনোর সুযোগ পায়। মূল একলব্য স্কুলটিতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পঠন পাঠনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া অন্য একটি সংস্থার মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দে ঝাড়গ্রাম শহরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত একটি ফিডার স্কুলও রয়েছে। ফিডার স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিতে ৬০ জন করে আদিবাসী পড়ুয়া। ফিডার স্কুলের মোট আসন সংখ্যা ৩০০।

Advertisement

এতদিন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, লটারির মাধ্যমে ফিডার স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি নেওয়া হত। এ জন্য অবশ্য একলব্য স্কুলেই লটারি করা হত। ফিডার স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরে ৬০ জন পড়ুয়াকে সরাসরি একলব্য স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি নেওয়া হত। একলব্য স্কুলের দায়িত্বভার রামকৃষ্ণ মিশনকে দেওয়ার পরে চলতি শিক্ষাবর্ষে ফিডার স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির লটারি করা হয়নি। ফিডার স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিত উত্তীর্ণ ৬০ জন ছাত্রছাত্রীকে এ বছর আর সরাসরি ভর্তি নেওয়া হবে না। পরিবর্তে ওই পড়ুয়াদের অ্যাডমিশন টেস্ট
দিতে হচ্ছে।

অভিভাবকদের প্রশ্ন, যারা ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হবে, ওই সব ছেলে মেয়েরা কোথায় ভর্তি হবে? সদুত্তর নেই প্রশাসনের কাছে। রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছানুসারে মিশন কর্তৃপক্ষের হাতে স্কুলের পরিচালন ভার তুলে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কিছুই করার নেই।”

Advertisement

আদিবাসী ছেলেমেয়েদের সরকারি খরচে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকায় একলব্য স্কুল চালু করা হয়। কিন্তু মেধার ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হলে, ফিডার স্কুলের বাদবাকি পড়ুয়ার ভবিষ্যত্‌ কী হবে সেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও আদিবাসী সমাজের নেতৃত্ব। একলব্য স্কুলের টিচার ইনচার্জ নৃপেন টুডু বলেন, “এ বছর ফিডার স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির লটারি করার জন্য কোনও সরকারি নির্দেশ আসেনি। তাই লটারি হয়নি। রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।’’ অভিভাবক মহেন্দ্রনাথ মুর্মু, দুবাই মুর্মুরা বলেন, “ফিডার স্কুলে পাস-ফেল ছিল না। একলব্যে ভর্তি পরীক্ষায় সফল না হলে তখন আমাদের ছেলে মেয়েরা কোথায় পড়বে? এর ফলে তো গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র আদিবাসী পড়ুয়ারাই বঞ্চিত হবে। প্রতিবাদে আমরা রবিবার মৌন জমায়েত করব।” অভিভাবকদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে একাধিক আদিবাসী সংগঠন। ঝরিয়া খেরওয়াল উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক প্রবীর মুর্মু বলেন, “আদিবাসীদের নিয়ে এই ছেলেখেলা বন্ধ হোক।”

নাক-এর স্বীকৃতি। পঠন-পাঠন, পরিষেবা এবং অন্যান্য পরিষেবার নিরিখে, ‘ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রিডেটেশন কমিটি’ বা নাক-এর ‘এ-গ্রেড’ পেল উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের মহাদেবানন্দ মহাবিদ্যালয়। নির্ধারিত ৪ নম্বরের মধ্যে ৩.০২ পেয়ে এ গ্রেড পেয়েছে ওই কলেজ

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement