গড়বেতায় শিল্পতালুক গড়ে তোলার জন্য জোরালো দাবি উঠল ব্যবসায়ীদের আলোচনাসভাতেই। কৃষি ভিত্তিক হোক বা অন্য কিছু -প্রত্যেক ব্যবসায়ীই চান, ছোট বা মাঝারি মানের কারখানা তৈরি হোক। কারখানা তৈরি হলে ব্যবসার যেমন প্রসার ঘটবে তেমনই চাকরি মিলবে বেকার যুবকদেরও। যা শুনে এ ব্যাপারে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন ইন্সটিটিউট ফর স্টিল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্রোথ -এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (মেকানিক্যাল) এ কে সামন্ত।
মঙ্গলবার গড়বেতা চেম্বার অব কমার্স এণ্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ২১ তম বার্ষিক সাধারণ সভা ছিল। সংগঠনের সভাপতি সুব্রত মহাপাত্র বলেন, “ইতিমধ্যেই আমরা ২০ জন উত্সাহী উদ্যোগপতির তালিকাও তৈরি করেছি। এ ব্যাপারে সরকারি সাহায্য মিললে দ্রুত সেই কাজ শুরু করা যাবে।” ব্যবসায়ী সলিলরঞ্জন দে বলেন, “অনেকে ব্যক্তিগতভাবেও কারখানা করতে উত্সাহী। কিন্তু সেখানে জমি একটা বড় সমস্যা হয়েছে দাঁড়াচ্ছে। জমির চরিত্র পরিবর্তন করতে গেলে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর এত টাকা দাবি করছে যে, তা সহজে দেওয়া সম্ভব নয়। ক্ষুদ্র বা মাঝারি শিল্প করতে ন্যূনতম ২৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে জমির চরিত্র পরিবর্তন করতে গিয়েই সেখানে সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা প্রয়োজন পড়ছে। ফলে সাধারণ উদ্যোগপতির ক্ষেত্রে এটা বড় বাধা।”
ব্যবসায়ীদের দাবি, যেখানে বৃহত্ শিল্পপতিদের সরকার নানা ভাবে সহযোগিতা করছে, সেভাবেই ক্ষুদ্র শিল্পেও জোর দেওয়া হোক। নয়তো গ্রামেগঞ্জে ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার সম্ভব নয়। সুব্রতবাবুও বলেন, “বিষয়গুলি নিয়ে বারেবারে মন্ত্রীর কাছেও গিয়েছি। সেখানে আশ্বাসও পাচ্ছি। কিন্তু জেলাস্তরে কাজ হচ্ছে না।” এবার ফের এ বিষয়ে বিভিন্ন দাবি নিয়ে সরকারের কাছে যাওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সংগঠন। এ দিনের সাধারণ সভায় প্রায় ২ হাজার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি উদয়রঞ্জন পাল, সংগঠনের সম্পাদক তাপস চন্দ্র।