আর্থিক দুর্নীতির খবর চাউর হতেই চন্দ্রকোনার বালা সমবায় সমিতি থেকে গ্রাহকদের টাকা তোলার হিড়িক পড়ে গেল। দুর্নীতির অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে সমবায়ের হিসাবরক্ষক আনন্দ খামরুই ও কোষাধ্যক্ষ অসিত খামরুইকে পুলিশ গ্রেফতার করে। যদিও দুর্নীতিতে মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের চন্দ্রকোনা-২ ব্লকের কুঁয়াপুর অঞ্চল সভাপতি তথা ওই পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ শঙ্কর ঘোষ, সমবায়ের ম্যানেজার অলোক জানা-সহ বাকি অভিযুক্তরা পলাতক।
বুধবার সকাল থেকেই বহু গ্রাহক পাশ বই নিয়ে টাকা ফেরতের দাবিতে সমবায় অফিসে জড়ো হন। সমবায় অফিসে উপস্থিত ওই কর্মী গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেন নি। বালা কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি নামে ওই সমবায়ের উপর বালা-সহ আট-দশটি গ্রামের মানুষ নির্ভরশীল। সংস্থাটির ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে। এ দিন সমবায়ের অফিসে এসেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় গ্রাহকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ওই সমবায়ের গ্রাহক শ্যামপদ বক্সি, রতন ঘোষ, কাশিনাথ পাত্রদের বক্তব্য, “বিষয়টি সমবায় মন্ত্রী-সহ মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে।”
এআরসিএস ও পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই ওই সমবায়ে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। ২০০৮ সালে ওই সমবায়ে ক্ষমতায় ছিল সিপিএম। ২০০৯ সাল থেকে সমবায়ের পরিচালন সমিতিতে ক্ষমতা দখল নেয় তৃণমূল। প্রথমে সমবায় থেকে ভুয়ো ঋণ দেওয়া, খরার কারণে সরকারি ভাবে ঋণ নেওয়া চাষিদের ঋণ মকুব করার টাকা-সহ গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা তথা সমবায়ের সাধারণ সদস্য শক্তিপদ মণ্ডল জেলা সমবায় প্রবন্ধকের দফতরে বিষয়টি জানান। অভিযোগ পেয়ে দফতরের উর্ধ্বতন অফিসারেরা তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে সমবায়ের প্রায় ১ কোটি টাকা গরমিলের প্রমাণ মেলে। তারপরই শক্তিপদবাবু অভিযুক্তদের শাস্তি ও টাকা ফেরতের দাবিতে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় মঙ্গলবার সমবায়ের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। ধৃতদের বুধবার ঘাটাল আদালতে তোলা হলে দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ হয়।
সমবায়ের জেলা প্রবন্ধক মদনমোহন ঘোষ বলেন, “প্রাথমিক ভাবে আর্থিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ১২জনের নামে পেয়েছি। সমবায়ের আগের বোর্ড ও বর্তমান বোর্ডের নানা কর্মকর্তা-সহ আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে।” পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি ফের ওই সমবায়ে ৩৪ লক্ষ টাকা তছরুপের খবর চাউর হতেই মঙ্গলবার গ্রাহকেরা সমবায়ে বিক্ষোভ দেখায়। টাকা তুলে নেওয়ার জন্য গ্রাহকেরা সমবায় অফিসে ভিড় করতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সমবায়ের কর্মকর্তারা বেপাত্তা হয়ে যায়। এ দিন রাতেই পুলিশ সমবায়ের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের জেরা করে আরও ২০ জনের নাম পাওয়া গিয়েছে।
অন্য দিকে, বুধবার আচমকাই ঘাটাল-সহ একাধিক শাখা পরিদর্শন করলেন স্টেট ব্যাঙ্কের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীল শ্রীবাস্তব। গ্রাহকদের সমস্যার কথাও শুনলেন তিনি।