সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সাফল্য মেদিনীপুরে। শহরের বাসিন্দা রণবীর ভৌমিক সর্বভারতীয় এই পরীক্ষায় ১৫৭ স্থান পেয়েছেন। এরপর আইপিএস হওয়াই তাঁর লক্ষ্য। শুধু তাঁর পরিবার নয়, খুশির হাওয়া শহর জুড়েই। বাবা রবীন্দ্রনাথ ভৌমিক চেয়েছিলেন ছেলে চিকিত্সক হোক। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মনোমালিন্যও কম হয়নি। তবে মা সুপ্রিয়াদেবী সব সময় ছেলের ইচ্ছেকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু বরাবরই মেধাবী রণবীর। উচ্চমাধ্যমিকে কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করে যাদবপুরে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়া শুরু করেন। স্নাতকে প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে চলে যান মুম্বই আইআইটিতে। সেখানে স্নাতকোত্তরেও প্রথম বিভাগে পাশ করেন। তবে প্রথম নয়, দ্বিতীয় হন।
এরপর গবেষণার গিয়েছিলেন ফ্রান্স। কিন্তু মন টেঁকেনি। পরপর দু’বার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করেও শেষ পর্যন্ত চাকরিটি পাননি। ২০১৪ সালে ফের পরীক্ষায় বসেন। এ বার কৃতিত্বের সঙ্গেই পাশ করে ১৫৭ স্থান অধিকার করেছেন।
প্রাক্তন ব্যাঙ্ক আধিকারিক রবীন্দ্রনাথবাবু খুশি। তিনি বলেন, ‘‘নিজের ছেলেকে দিয়ে বুঝলাম, জোর করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার করার চেষ্টা করা উচিত নয়। তাতে ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।’’
পড়াশোনার জন্য বরাবরই জেলার বাইরে থেকেছেন রণবীর। রবীন্দ্রনাথবাবুর কথায়, “ছেলের ইচ্ছে দেশের জন্য কিছু করতে হবে। সেই ইচ্ছে থেকেই দেশে ফেরা।” পরপর তিনবারের চেষ্টায় সাফল্যও মিলল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাতে।