স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক

সরকারি অনুদানে ক্লাবের নাম সুপারিশ নিয়ে প্রশ্ন

রাজ্য সরকারের দান খয়রাতি নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। প্রশ্ন উঠেছে সাহায্যপ্রাপ্ত ক্লাবগুলির যোগ্যতা নিয়ে। এ বার সেই প্রশ্ন উঠল জেলার ভিতরেই। বিধায়কদের সুপারিশ করা ক্লাবগুলির কথা জেলা প্রশাসন বা জেলা ক্রীড়া দফতর জানতেই পারে না বলে সরাসরি উঠল অভিযোগ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অগস্ট ২০১৫ ০০:৩৯
Share:

চলছে বৈঠক। তমলুকে। ছবি: পার্থপ্রতিম দাস।

রাজ্য সরকারের দান খয়রাতি নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। প্রশ্ন উঠেছে সাহায্যপ্রাপ্ত ক্লাবগুলির যোগ্যতা নিয়ে। এ বার সেই প্রশ্ন উঠল জেলার ভিতরেই। বিধায়কদের সুপারিশ করা ক্লাবগুলির কথা জেলা প্রশাসন বা জেলা ক্রীড়া দফতর জানতেই পারে না বলে সরাসরি উঠল অভিযোগ।
বুধবার রাজ্য বিধানসভার তথ্য-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান চৌধুরী মহম্মদ হেদায়াতুল্লাহ, সদস্য অনুপ ঘোষাল ও বিরাম মাণ্ডি পূর্ব মেদিনীপুরে এসেছিলেন। জেলা প্রশাসনিক ভবনে তাঁরা বৈঠক করেন জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও জেলা তথ্য-সংস্কৃতি দফতর, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে।
বৈঠকের পর চৌধুরী মহম্মদ হেদায়াতুল্লাহ বলেন, ‘‘ক্রীড়া উন্নয়নের খাতে রাজ্য ক্রীড়া দফতর বিভিন্ন ক্লাবগুলিকে প্রথম বছর ২ লক্ষ ও পরবর্তী বছরে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিধায়কদের সুপারিশ করা জেলার কোন ক্লাবগুলি টাকা পাচ্ছে জেলা ক্রীড়া ও যুবকল্যান দফতর তা জানতে পারছে না।’’ তাঁর দাবি এর ফলে জেলার কোন ক্লাবগুলি টাকা পাবে এবং প্রাপ্ত টাকা ঠিকমত খরচ করা হচ্ছে কিনা তা জেলা ক্রীড়া দফতর জানতে পারছে না। এমনকী যেহেতু সরাসরি রাজ্য সরকারে কাছ থেকে ছাড়পত্র মিলেছে, তাই টাকা পেয়ে খরচ হয়ে যাওয়ার পরে ক্লাবগুলির তালিকা আসছে জেলা প্রশাসন বা ক্রীড়া দফতর কাছে।
এর ফলে আখেরে ব্যহত হচ্ছে নজরদারি। হেদায়তুল্লার দাবি তাঁরা এর আগেই রাজ্য সরকারকে বলেছিলেন আগে ক্লাবগুলির তালিকা জেলা ক্রীড়া দফতরের কাছে পাঠাতে। ন্যূনতম তদন্ত করে যোগ্য ক্লাবগুলির নামই যেন সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু তেমন হয়নি কোনও বারই।

Advertisement

এ দিন ব্লক স্তরে যুব কল্যাণ আধিকারিকের পদ শূন্য পদ পূরণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে বলেও তাঁরা জানান। জেলা ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ২৫ টি ব্লক ও ৫ টি পুরসভা মিলিয়ে ৩০ জন ব্লক যুব আধিকারিক থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে জেলা আছেন মাত্র ৫ জন ব্লক যুব আধিকারিক আছেন। ফলে দফতরের কাজে নানা সমস্যা হচ্ছে। জেলার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিকাঠামোর সমস্যার পর্যবেক্ষণ করে বিধানসভার স্ট্যান্ডিং সদস্যরা জানান, পূর্ব মেদিনীপুরে তমলুক শহরে সরকারি প্রেক্ষাগৃহ নেই, কাঁথিতে সুইমিংপুল নেই। অরবিন্দ স্টেডিয়ামের পাশে যে জলাশয়টি সেখানে সুইমিংপুল গড়ে তোলার জন্য সুপারিশ করা হবে। পাশাপাশি দিঘায় একটি প্রেক্ষাগৃহ গড়ে তোলার জন্য সুপারিশ করা হবে।

জেলা প্রশাসনিক ভবনে বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা শাসক অন্তরা আচার্য, অতিরিক্ত জেলা শাসক (ট্রেজারি) প্রশান্ত অধিকারী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি মধুরিমা মণ্ডল, জেলা পরিষদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্য-ক্রীড়া কর্মাধ্যক্ষ মামুদ হোসেন ও জেলা যুব আধিকারিক বর্ষারানি বসু-সহ ব্লক যুব আধিকারিকরা। প্রশাসনিক কার্যালয়ে বৈঠকের পর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা মহিষাদলের প্রজ্ঞানানন্দ ভবন ও রাজবাড়ি পরিদর্শন করে হলদিয়া ভবনে যান।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement