অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বরাদ্দের সামনে বন্ধ থাকা দরজাও এ বার খুলতে চলেছে। তার আগে উপভোক্তা বাছাইয়ে কেন্দ্রের ‘কঠোর বিধি’ কিছুটা সরল করার চেষ্টায় রয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের অন্দরের খবর, এ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গেও আলোচনা করতে চাইছে নবান্নের সর্বোচ্চ মহল। তার আগে সব জেলাশাসককে উপভোক্তা বাছাইয়ের বিধি পর্যালোচনা করে রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ঘটনাচক্রে, বহু বছর ধরে এমন কঠোর বিধি মেনেই চলছিল উপভোক্তা বাছাইয়ের কাজ। তার সরলীকরণ হলে আরও অনেক যোগ্য উপভোক্তা সেই তালিকায় ঠাঁই পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আবাস প্রকল্পের সবিস্তার বিধির আওতায় আয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অনেক ধরনের নিয়ম বলে দেওয়া রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম বাড়ির গঠন। জেলা-কর্তারা জানাচ্ছেন, পুরোপুরি মাটির বাড়ি হলে উপভোক্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে সমস্যা নেই। কিন্তু বাড়ির ছাদ অ্যাসবেস্টস বা করোগেটেড শিটের তৈরি হলে আবাসের বাড়ি পাওয়া সমস্যার। কারণ, কেন্দ্রীয় বিধিতে বলা রয়েছে, যাঁদের বাড়ি নেই অথবা পাকা বাড়ি নেই, তাঁরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অথচ বহু যোগ্য উপভোক্তা শুধু মাত্র অ্যাসবেস্টস বা করোগেটেড শিটের কারণে বাদ চলে যান। সাম্প্রতিক একটি বৈঠকে নবান্ন জেলাকর্তাদের বলে দিয়েছে, এমন বিষয়গুলি তালিকাভুক্ত করতে হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে এই ধরনের বিষয়গুলি বাদ দেওয়ার আর্জি জানাবে রাজ্য। এক কর্তার কথায়, “বহু গরিব মানুষের বাড়ি মাটির হলেও, তাঁরা বৃষ্টি বা দুর্যোগ থেকে বাঁচতে কষ্ট করেও ছাদ তুলনায় কিছুটা মজবুত করার চেষ্টা করেন। তাই শুধু এই কারণে তাঁদের বাদ যাওয়া উচিত নয়। সেই কারণেই এই পরিকল্পনা।”
আগামী জুলাই থেকেই শুরু হতে চলেছে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প ‘জি-রাম-জি’। আধিকারিকদের ধারণা, তার সমান্তরালে আবাস প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গের জন্য ‘কোটা’ (একটি আর্থিক বছরে কত জন উপভোক্তাকে বাড়ির টাকা দেওয়া হবে) বরাদ্দ করবে কেন্দ্র। তার আগেই বিধি শিথিল করা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা সেরে ফেলতে চাইছে রাজ্য। তৃণমূল সরকারের শেষ পাঁচ বছরে যত উপভোক্তাকে (দু’টি দফা মিলিয়ে প্রায় ৪৩ লক্ষ) বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হয়েছিল, ইতিমধ্যেই সেই তালিকা পুনর্যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। তা থেকে ‘অযোগ্য’দের বাদ দেওয়ার কথা। এর পরে নতুন উপভোক্তা বাছাই শুরু হবে। কেন্দ্র রাজ্যের আর্জি মেনে নিলে নতুন বিধিতে সেই কাজ হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে