Footpath Encroachment

জবরদখলকারীদের উচ্ছেদে বাধা পুলিশের, ফিরে এলেন পুরকর্তারা

পুরসভা সূত্রের খবর, একাধিক দোকানি দাবি করেন, ওই জমিতে তাঁদের মালিকানা রয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছন নরেন্দ্রপুর থানার এক সাব-ইনস্পেক্টর। কার নির্দেশে ওই টিন খোলা হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে পুর চেয়ারম্যানের সামনেই তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

—ফাইল চিত্র।

জবরদখল সরাতে গিয়েও পুলিশের বাধায় পিছু হটল পুরসভা। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ডে। অভিযোগ, গত পাঁচ বছর ধরে ওই বাস স্ট্যান্ড চত্বর টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে বেশ কিছু অবৈধ দোকান। এ দিন সকালে পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লব দাস এবং এগ্‌জ়িকিউটিভ অফিসার শুভাশিস বসুর নেতৃত্বে পুরকর্মীরা ওই টিনের বেড়া খুলে ফেলার কাজ শুরু করেন। জবরদখলকারীদের পুর চেয়ারম্যান জানান, তাঁদের কোনও জিনিসে হাত দেওয়া হবে না। ধীরে ধীরে কয়েক দিনের মধ্যে সমস্ত জিনিস সরিয়ে নেওয়া যাবে।

পুরসভা সূত্রের খবর, একাধিক দোকানি দাবি করেন, ওই জমিতে তাঁদের মালিকানা রয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছন নরেন্দ্রপুর থানার এক সাব-ইনস্পেক্টর। কার নির্দেশে ওই টিন খোলা হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে পুর চেয়ারম্যানের সামনেই তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। পুরকর্মীদের ধমকে কাজ বন্ধ করে দেন ওই অফিসার।

অভিযোগ, ওই পুলিশ অফিসার দোকানিদের একজোট করে পুরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ওই দোকানিদের তিনি বলেন, ‘‘কোনও অনুমতি ছাড়াই পুরসভা দোকান তুলে দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে হবে।’’ ওই পুলিশ অফিসারের এই আচরণের পরে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান পুর চেয়ারম্যান ও ইঞ্জিনিয়ারেরা। পুরসভা সূত্রের খবর, ওই অফিসারের বিরুদ্ধে নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুরসভার কর্তারা জানান, দোকানিদের মধ্যে যাঁরা ওই জমিতে মালিকানা আছে বলে দাবি করেছিলেন, তাঁদের কাছে এই সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়েছিল। সেই সব নথি পাওয়ার পরেই গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করে জবরদখলকারীদের সরাতে টিন খোলা হচ্ছিল। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পুলিশের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশেই গড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি দখল এবং গাঁজা ও মাদকের রমরমা কারবার চলছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে থানায় নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। রাজ্যে পালাবদলের পরেও সে সব বন্ধ হয়নি।

পুর চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘নরেন্দ্রপুর থানায় ফোন করে জানিয়েই টিন খোলার কাজ শুরু করা হয়েছিল। দোকানদারদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই সুষ্ঠু ভাবে ওই কাজ হচ্ছিল। আচমকা ওই পুলিশ অফিসার এসে উত্তেজনা তৈরি করেন। সমস্ত কাজ বন্ধ করে দেন। ওঁর এই আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু বলার নেই।’’ রাজ্য পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা স্থির করা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন