West Bengal Budget

আশার ভাতা ছিটেফোঁটা, মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়

অন্য সরকারি কর্মীদের মতো স্কুল শিক্ষকদের এ বারও ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতায় না-আনার ফলে তাঁরাও হতাশ।

শান্তনু ঘোষ, আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৭
Share:

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত দেড় দশকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯৯.৫ শতাংশ ছোঁয়া নিয়ে বাজেট বক্তৃতায় বড়াই করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু এই কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য মাত্র ১০০০ টাকা মাসিক সাম্মানিক বাড়ানো হল। নানা দাবিতে ৪৫ দিন ধরে কর্মবিরতি চালাচ্ছেন ওই সহায়িকা কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের সম্পাদক ইসমত আরা খাতুন বলেন, “যেটুকু সাম্মানিক বাড়ল, তা উৎসব ভাতার থেকেও কম। এতটা কমহবে ভাবিনি।”

পাশাপাশি, স্কুলের মিড-ডে মিল-এর খাতে রাজ্যের অংশ এবং স্কুলগুলির জন্য কম্পোজ়িট অনুদানে রাজ্যের অংশও ছিটেফোঁটা বাড়েনি। রাজ্যের প্রাপ্তির সম্ভাবনা বলতে, মুর্শিদাবাদ হাজারদুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঐতিহাসিক উৎকর্ষ কেন্দ্র বিলে একটি নতুন রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে পার্শ্ব শিক্ষক-সহ শিক্ষাকর্মীদের জন্য ১০০০ টাকা ভাতা বেড়েছে। শেষ বার এই ভাতা বেড়েছিল ২০১৮ সালে। বহু স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক কম থাকায় পার্শ্ব শিক্ষকদেরই কাজ চালাতে হয়। প্যারাটিচার কল্যাণ সমিতির সম্পাদক অভিজিৎ ভৌমিক বলেন, “প্রাথমিক স্তরে পার্শ্ব শিক্ষকদের ভাতা ১০ হাজার টাকা। উচ্চ প্রাথমিকের ১৩ হাজার টাকা। আশা করেছিলাম অন্তত বাজারদর অনুযায়ী তিন-চার হাজার টাকা ভাতা বাড়বে।”

অন্য সরকারি কর্মীদের মতো স্কুল শিক্ষকদের এ বারও ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতায় না-আনার ফলে তাঁরাও হতাশ। কয়েক জন প্রধান শিক্ষক জানান, তাঁরা এখন মাসে ৫০০ টাকা করে চিকিৎসা ভাতা পান শুধু। কেবলমাত্র বিরোধীরাই নয়, তৃণমূলপন্থী স্কুল শিক্ষক সংগঠনগুলিও এই নিয়ে সরব ছিল।

খাতায়-কলমে অবশ্য স্বাস্থ্য, শিক্ষায় ২০২৬-’২৭ আর্থিক বর্ষে বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা বলেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। গত অর্থবর্ষের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ২১,৩৫৫.২৫ কোটি টাকা। এ বারে তা বেড়ে হয়েছে ২২,৩৩৮.০৮ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে গত অর্থবর্ষে বরাদ্দ ছিল ১৮৫৮ কোটি টাকা। এ বারে তা বেড়ে ৩ হাজার কোটি হয়েছে।

২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে বিদ্যালয় শিক্ষার বরাদ্দ ছিল ৪১,১৫৩.৭৯ কোটি টাকা। এ বার তা সামান্য বেড়ে ৪১,২৩৪.৬৬ কোটি টাকা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দ ছিল ৬৫৯৩.৫৮ কোটি টাকা। ২০২৬-’২৭-এ তা সামান্য বেড়ে ৬৮৫৮.৬৯ কোটি টাকা হয়েছে। যাদবপুর, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইদানীং সময় মতো সরকারি বরাদ্দ না-আসায় বেতন আর পেনশন দিতেও সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। নতুন বরাদ্দে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের ন্যূনতম পরিকাঠামো নিয়ে দিশা নেই।

একই ভাবে কারিগরি শিক্ষা, তালিম ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১৪২৩.৮৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে বরাদ্দ হয়েছে ১৪৬৪.১৯ কোটি টাকা। মাদ্রাসা শিক্ষা ও সংখ্যালঘু বিষয়ক বরাদ্দও ৫৬০২.২৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫৭১৩.৬১ কোটি টাকা হয়েছে।

সাম্মানিক বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মরত অবস্থায় আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মৃত্যু হলে পরিজনকে এককালীন পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন চন্দ্রিমা। আগামী অর্থবর্ষে আশাকর্মীদের জন্য ১০০ কোটি এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য ২৫০ কোটি টাকাও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আবার, সরকারি মহিলা কর্মীদের মতো আশাকর্মীদেরও ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। আজ, শুক্রবার আন্দোলনরত আশা ও অঙ্গনওয়াড়িকর্মীরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গিয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি এক লক্ষ শিশুর জন্মের নিরিখে ১০৪ জনে নেমে এসেছে। কিন্তু তা ১০০-র নীচে কেন নামানো যাচ্ছে না, েসই বিষয়ে বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন