বিএসএফ জওয়ানদের কাজে বিতর্ক মুর্শিদাবাদে। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
স্থানীয় তৃণমূল নেতার সঙ্গে ইফতার পার্টিতে যোগ দেওয়ার অভিযোগে সাত জন বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে ভোটঘোষণার আগে এই সাত জনকে মুর্শিদাবাদের নিমতিতা এলাকায় এক ইফতার পার্টিতে দেখা গিয়েছিল। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী সামিউল হকের আমন্ত্রণে ইফতার পার্টিতে যোগ দেন তাঁরা। খাওয়াদাওয়ার সময় তাঁদের পরনে ছিল বিএসএফ-এর পোশাক। সেই ছবি কিছু দিনের মধ্যে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে (ছবি বা ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। পৃথক ভাবে সাত জনের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিএসএফ-এর তরফে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে বিএসএফ। বাকি পাঁচ জনকে ভিন্ রাজ্যে বদলি করা হয়েছে। রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়ার আগে এই ঘটনা ঘটলেও তদন্তপ্রক্রিয়া শুরু হয় আদর্শ আচরণবিধি চালুর পর। নির্বাচন কমিশনে পৃথক ভাবে এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। কমিশনের সুপারিশে বিএসএফ এই সাত জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে বলে খবর। তবে এই সাত জওয়ান আদৌ ভোটের কাজে নিযুক্ত ছিলেন না।
সমশেরগঞ্জের হিংসার পর থেকেই মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অংশে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ইদের সময় সমস্ত থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশকে সহযোগিতা করেছে বাহিনী। অভিযুক্ত সাত জওয়ান সেই দায়িত্বেই ছিলেন। ইফতারের সময় তৃণমূল নেতার বাড়ি গিয়ে বাহিনীর পোশাক পরেই খাওয়াদাওয়ার অভিযোগে বিতর্ক দানা বাঁধে। যদিও অভিযুক্তদের বক্তব্য, তাঁরা কারও বাড়ি যাননি। বরং বিএসএফ ক্যাম্পেই ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক আর অর্জুন বলেছেন, ‘‘২৮ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিএসএফ তদন্ত করে এবং গত ৯ মার্চ ও ১১ই মার্চ ওই জওয়ানদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে এই ঘটনা ঘটেছে।’’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশকর্তার বক্তব্য, ‘‘ওই জওয়ানেরা নিমতিতা বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে খাওয়াদাওয়া করছিলেন। ঘটনাস্থলে ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এক তৃণমূল নেতা। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, বিশেষ কোনও আয়োজনও করা হয়নি।’’