Coronavirus

সংক্রমণের শঙ্কা সত্ত্বেও বাড়ি পাঠানোয় ক্ষোভ

এদিন সকাল থেকে তাঁরা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপারের অফিসের সামনে অবস্থানে বসেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২০ ০৫:৩২
Share:

মেডিক্যালে বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেশ কয়েক জনই এক করোনা আক্রান্ত যুবকের সংস্পর্শে এসেছিলেন, যে যুবকের পরে মৃত্যু হয়। তাঁর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে হাসপাতালের চার জন অস্থায়ী কর্মীও রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁদের হাসপাতালে কোয়রান্টিনে না রেখে বাড়ি থাকার পরামর্শ দেন মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাড়িতে কোয়রান্টিনে থাকার ব্যবস্থা না থাকায় বুধবার রাতভর হাসপাতাল চত্বরে তাঁদের কাটাতে হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাফাইকর্মীরা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন। অভিযোগ ওঠে, অবস্থান তোলার জন্য হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার শর্মিলা মল্লিক বলেন, ‘‘করোনা পজ়িটিভের সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক, নার্স ও দু’জন অস্থায়ী কর্মীকে নিয়ে মোট ২১জনের তালিকা আমরা করেছিলাম। তাঁদের মধ্যে সরাসরি করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছেন এমন ৮ জনকে হাসপাতালে থাকার ব্যবস্থা করেছি। বাকিদের লালারস নিয়ে হোম কোয়রান্টিনে থাকার কথা বলা হয়েছিল।’’ তাঁর দাবি, ‘‘চার অস্থায়ী কর্মী যে বাড়ি যেতে পারেননি, তা আমাদের কেউ জানায়নি। বৃহস্পতিবার জানতে পেরেই তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছি। অবস্থান তোলা নিয়ে হুমকি দেওয়ার কোনও অভিযোগ পাইনি।’’

এদিন সকাল থেকে তাঁরা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপারের অফিসের সামনে অবস্থানে বসেন। মাঝে স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মী আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে তাঁদের বোঝাতে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। তখন পুলিশ এসে সেই তৃণমূল কর্মীকে সরিয়ে দেয়। তৃণমূলের লোক কেন আন্দোলনে হস্তক্ষেপ করবে আন্দোলকারীরা এমন প্রশ্নও তোলেন। শহর তৃণমূলের সভাপতি নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘করোনা পরিস্থিতিতে আন্দোলন হচ্ছে খবর পেয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েক জনকে পাঠিয়েছিলাম। সকলকে বুঝিয়ে আন্দোলন তোলা হয়েছে। কেউ কাউকে হুমকি দেয়নি।’’অন্যদিকে আন্দোলনের জেরে পরিষেবা থমকে পড়ে। এদিন বিকেল পর্যন্ত হাসাপাতাল ভিতর পরিস্কার হয়নি। রোগীরাও সমস্যায় পড়েন। ওয়ার্ড থেকে অন্যত্র নিয়ে যেতে হলে রোগীর আত্মীয়দের নিয়ে যেতে হয়েছে। আন্দোলনকারীদের পক্ষে সুপর্ণা সাহা বলেন, ‘‘করোনা আক্রান্তকে চারজন ওয়ার্ড বয় দেখাশোনা করেছেন, শয্যা থেকে স্ট্রেচারে তোলা, গাড়িতে তোলার কাজ করেছেন। অথচ তাঁদের কোয়রান্টিন কেন্দ্রে না রেখে বাড়িতে যাওরা পরামর্শ দিয়েছে। তাই আমরা সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।’’

Advertisement

আন্দোলনকারীদের দাবি, চিকিৎসক নার্সদের হাসপাতালে কোয়রান্টিনে থাকার ব্যবস্থা করা হলেও চার ওয়ার্ড বয়ের ক্ষেত্রে কিছুই করা হয়নি। অথচ ওই যুবককে ওয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে রাখা বা বের করার কাজ তাঁরা করেছিলেন। তাঁদের কোয়রান্টিন কেন্দ্রেই রাখা উচিত ছিল। তার বদলে তাঁদের হোম কোয়রান্টিনে থাকতে বলা হল। তার উপরে, তাঁরা সেখানেও যেতে পারলেন না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement