বন্ধ দোকান। নিজস্ব চিত্র।
গাংনাপুর বাজার থেকে পাকা রাস্তা কুপার্স ক্যাম্প হয়ে রানাঘাট শহরে চলে গিয়েছে। সেই রাস্তার বাঁ দিকে বেশ কয়েকটি এবং ডান দিকে গুটি কয়েক বাজির দোকান। এমনি দিনে দোকানের সামনে ভিড় থাকে। মোটরবাইকে এসে অনেকে বাজি কিনে নিয়ে যায়।
হাইকোর্ট দীপাবলি ও ছটপুজোয় বাজি নিষিদ্ধ করার শুক্রবার সেই চেনা ছবিটা উধাও। একটি বাদে সব দোকান বন্ধ। একটি দোকানের সামনে একটি চেয়ার পাতা। তাতে কেউ বসে নেই। একটি মাত্র দোকান খোলা রয়েছে। তাতে পরিবারের লোকেরা বসে গল্প করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ওই দোকানগুলিতে প্রকাশ্যে আতশবাজি সাজিয়ে রাখা হয়। গোপনে চলে শব্দবাজির ব্যবসা। শব্দবাজি কিনতে ভিড় জমে যেত পুজোর সময়ে। ট্রেন ছাড়াও দু’চাকা বা চারচাকা গাড়িতে আসতেন ক্রেতারা। ভিড়ের চোটে এক সময়ে দোকানের সামনের রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যেত না। দুর্গাপুজোর আগে থেকে রমরমিয়ে ব্যবসা শুরু হয়ে যেত। চলত কালীপুজো পার করে জগদ্ধাত্রী পুজো পর্যন্ত। বছরের অন্য সময়েও কমবেশি বাজির ব্যবসা চলত।
বছর চল্লিশ আগে রানাঘাট ২ ব্লকের দেবগ্রাম পঞ্চায়েতের গাংনাপুরে প্রথমে একটি বাজি কারখানা তৈরি হয়েছিল। বাজির ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় কারখানার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখানকার বাজি বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি হত। এ ছাড়া, দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়া থেকে বাজি নিয়ে এসেও বিক্রি করা হত। এখন সে সব বন্ধ।
গত ৪২ বছরের বেশি ধরে এখানে ব্যবসা করছেন গোবিন্দ রায়। কিছু দিন থেকে তিনি অসুস্থ। তাঁর ছেলে দীপনারায়ণ রায় জানান, তাঁদের ১৯৭৮ সালের অনুমোদন। প্রায় আড়াই বছর আগে এখানে একটি কারখানায় বিস্ফোরণে দু’জন মারা গিয়েছিল। তার পর থেকে এখানে আতশবাজি আর তৈরি হয় না। এখন বিভিন্ন জায়গা থেকে আতশবাজি কিনে বিক্রি করেন। তাঁর কথায়, “একে লকডাউনে ব্যবসা একেবারে শেষ। ট্রেন চলছে না। ক্রেতারা আসছেন না। তার পর হাইকোর্টের এই নির্দেশ। ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছি। কী করে শোধ করব জানি না।” তাঁর আক্ষেপ, “দুর্গাপুজোর আগে আদালত এই নির্দেশ দিলে বাজি তুলতাম না!”
রানাঘাট শহরের বাজি বিক্রেতা দেবব্রত নন্দী বলেন, “১৯৯৩ সাল থেকে আমরা বাজি বিক্রি করছি। দুর্গাপুজোর আগে থেকে ব্যবসা শুরু হয়। কালীপুজো পর্যন্ত এই ব্যবসা চলে।” তাঁর মতেও, “দুর্গাপুজোর আগে বাজি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ পেলে ভাল হত। অথবা বিক্রির নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিলেও হত।” তবে রানাঘাটের মহকুমাশাসক হরসিমরন সিংহ বলেন, “বাজি বিক্রি বন্ধ করার বিষয়ে এখনও কোনও নির্দেশ হাতে পাইনি। পেলেই পদক্ষেপ করা হবে।”