Nadia

বেশি দামে ডাস্টার কেনা? বিতর্কে জেলা ড্রাগ স্টোর

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য হস্তশিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেড, পশ্চিমবঙ্গ হস্তশিল্প উন্নয়ন নিগম লিমিটেড এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তাঁতশিল্পী সমবায় সমিতি লিমিটেড (তন্তুজা)।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৮:৪০
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পাঁচ টাকার ‘ধুলো ঝাড়ার রুমাল’ (ডাস্টার) ৭৫ টাকায় কিনছে নদিয়া জেলা স্বাস্থ্য দফতরের অধীনে থাকা ড্রাগ স্টোর। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এমন পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কেউ বলছেন, রাজ্যে পালাবদল হতেই একে একে এই ধরনের অনিয়ম প্রকাশ্যে আসছে। আবার কেউ বলছেন, যারা এই ধরনের পোস্ট সামনে এনেছেন, আসলে তাঁরা বর্তমান সরকারে ক্ষমতায় আসা বিজেপি-ঘনিষ্ঠ, এমনটাই বোঝাতে চাইছেন।

সূত্রের খবর, প্রতিটি জেলাতেই স্বাস্থ্য দফতরের অধীনে রয়েছে ডিআরএস বা ড্রাগ স্টোর। জেলার সরকারি ছোট-বড় হাসপাতালগুলিতে ওই স্টোর থেকে ওষুধ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সামগ্রী চাহিদামতো সরবরাহ করা হয়। আবার জেলা ড্রাগ স্টোর পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ওই সামগ্রী কিনে থাকে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ছবি দিয়ে যে পোস্ট করা হয়েছে, তাতে উল্লেখ রয়েছে ১০টি ডাস্টার অর্থাৎ ধুলো ঝাড়ার কাপড় বা রুমালের খরচ ৭৫৬ টাকা। শুধু তা-ই নয়, ওই পোস্টে ফার্মাসিস্ট অরূপ সরকারের নাম উল্লেখ করে, তাঁকে দোষারোপ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চারটি সংস্থাকে দরপত্রের মাধ্যমে সরকারি ডিআরএসগুলিতে ওই ডাস্টার সরবরাহের বরাত দেওয়া হয়েছিল। বরাত পাওয়া সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে তাম্রলিপ্ত সমবায় সুতো কল লিমিটেড, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য হস্তশিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেড, পশ্চিমবঙ্গ হস্তশিল্প উন্নয়ন নিগম লিমিটেড এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তাঁতশিল্পী সমবায় সমিতি লিমিটেড (তন্তুজা)।

প্রশ্ন উঠছে, কী ভাবে কম দামের সামগ্রী বেশি দাম দিয়ে বছরের পর বছর কেনা চলছিল? সমাজমাধ্যমের পোস্টে যাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেই অরূপ সরকার শনিবার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রয়োজনমতো আমরা জিনিসপত্র ক্রয় করি। কত দামে ক্রয় করা হয়, তা আমাদের হাতে থাকে না।” তবে সরকারি ওই তথ্য কী ভাবে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে তিনি নদিয়া জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে; অরূপ লিখিত অভিযোগ করেছেন। অরূপের দাবি, যিনি ওই তথ্য সামনে এনেছেন, তিনি আমার মতোই এতদিন তৃণমূল-ঘেঁষা সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর নদিয়া জেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক রঞ্জিতকুমার দাস বলেন, “কোন সংস্থার কাছ থেকে সামগ্রী কেনা হবে, তার দাম কত ইত্যাদি বিষয়গুলি নির্ধারণ করেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে জেলার কোনও ভূমিকা থাকে না।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন