রাহুল গান্ধী। ফাইল চিত্র।
গত দু’টো বড় নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে তাঁকে দেখা যায়নি। এ বার বিধানসভায় কংগ্রেসের একা লড়াইয়ের সময়ে দলের প্রচারে আসছেন রাহুল গান্ধী। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ ও মালদহের চাঁচলের পাশাপাশি আজ, মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলনেতার সভা রয়েছে মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে। বহরমপুরের মতো সদর শহর ছেড়ে কেন রাহুলের সভার জন্য শমসেরগঞ্জ বেছে নেওয়া হল, তা নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরে শুরু হয়েছে চর্চা। কংগ্রেসের একটি সূত্রের ব্যাখ্যা, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলার কয়েকটি সংলগ্ন কেন্দ্রকে একসঙ্গে ধরা এবং ‘ভোট-চুরি’র অভিযোগ তোলার সুবিধার্থেই শমসেরগঞ্জকে বাছা হয়েছে।
রায়গঞ্জ স্টেডিয়াম ও চাঁচলের কলম বাগান মাঠে সভা সেরে রাহুলের আজ সমাবেশ করতে আসার কথা শমসেরগঞ্জের কৃষি মান্ডির মাঠে। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অন্তর্গত হলেও শমসেরগঞ্জ বিধানসভা এলাকা মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। মালদহ দক্ষিণে গত বার সাংসদ হয়েছেন কংগ্রেসের ইশা খান চৌধুরী, ওই লোকসভার অধীনে মুর্শিদাবাদের দুই বিধানসভা কেন্দ্র ফরাক্কা ও শমসেরগঞ্জে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেসই। প্রদেশ কংগ্রেসের এক নেতার বক্তব্য, ‘‘শমসেরগঞ্জে সভা করলে রাহুল মালদহ ও মুর্শিদাবাদের পরস্পরের লাগোয়া কয়েকটি কেন্দ্রের মানুষকে একসঙ্গে বার্তা দিতে পারবেন। সেই কারণেই ওই জায়গা বাছা হয়েছে।’’ বিহারের বিধানসভা ভোটে লাগাতার ‘ভোট-চুরি’র অভিযোগে সরব ছিলেন রাহুল। যদিও তাতে নির্বাচনী ফায়দা মেলেনি। এই রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) শমসেরগঞ্জেই শুধু ‘বিবেচনাধীন’ তালিকা থেকে ৭৪ হাজারের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। যা বিধানসভা কেন্দ্রওয়াড়ি হিসেবে সর্বাধিক। সেই রকম একটি জনপদে এসে রাহুল নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপির ‘কারচুপি’র বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আদর্শ উদাহরণ পাবেন বলেও কংগ্রেস নেতৃত্বের মত।
এর পাশাপাশি অন্য একটি ব্যাখ্যাও ঘুরছে কংগ্রেসের অন্দর মহলে। মুর্শিদাবাদ তো বটেই, গোটা রাজ্যেই কংগ্রেসের সব চেয়ে ওজনদার প্রার্থীর নাম অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বহরমপুরে তিনি লড়ছেন, অন্য প্রার্থীদেরও দায়িত্ব নিয়েছেন। বহরমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তীকে পাঠানো হয়েছে সাগরদিঘির প্রার্থী করে। আবার শমসেরগঞ্জের নতুন প্রার্থী নাজমে আলম জেলায় কংগ্রেসের প্রচারে রসদ জোগাচ্ছেন। তাই জেলার উত্তরাংশের কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের উৎসাহ বাড়াতে রাহুলকে এই যাত্রায় শমসেরগঞ্জে নিয়ে আসা হচ্ছে। দলের জেলা সভাপতি মনোজ অবশ্য বলছেন, পরে বহরমপুরেও রাহুলজি আসতে পারেন, ওঁর সূচির উপরে বিষয়টা নির্ভর করছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতার এ বারের কর্মসূচির তত্ত্বাবধানের কাজে রায়গঞ্জে শাকিল আহমেদ খান ও অমিতাভ চক্রবর্তী এবং শমসেরগঞ্জে মায়া ঘোষ ও কৃষ্ণা দেবনাথকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রদেশ নেতৃত্বের তরফে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে