প্রতীকী ছবি।
কল্যাণীর কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ডিউটি রস্টারকে কেন্দ্র করে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর এবং রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তুমুল টানাপড়েন চলছে।
জেলা হাসপাতাল থেকে শুরু করে জেলার সব স্টেট জেনারেল, মহকুমা, গ্রামীণ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র হল স্বাস্থ্য দফতরের অধীন। কিন্তু কল্যাণী জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজ হল স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন। এর মধ্যে কারা কল্যাণী কোভিড হাসপাতালে ডিউটি করার জন্য বেশি চিকিৎসক ও বেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেবেন, তা নিয়ে বিবাদ শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষই চিকিৎসকদের আকালের কারণ দেখিয়ে কম চিকিৎসক দিতে চাইছেন। স্বাস্থ্য দফতর চাইছে, সেখানে জেএনএমের চিকিৎসকেরা বেশি ডিউটি করুক। অন্য দিকে জেএনএমের দাবি, স্বাস্থ্য দফতরের চিকিৎসকসংখ্যা ও পরিকাঠামো অনেক ভাল। তাঁদের চিকিৎসকদের কোভিড হাসপাতালে বেশি ডিউটি করা উচিৎ।
গত সোমবার জেলা প্রশাসনের তরফে একটি নির্দেশিকা বার করা হয়। সেখানে জেএনএমের চিকিৎসকদের কোভিড হাসপাতালে কী ভাবে ডিউটি করতে হবে তার উল্লেখ করা হয়। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের তরফে ১২ দিনের জন্য একটি ডিউটি রস্টারও তৈরি করা হয়। তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন জেএনএমের চিকিৎসকেরা। কল্যাণী মেডিক্যাল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে এ বিষয়ে লিখিত ভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়। মঙ্গলবার জেএনএমের তরফে পাল্টা একটি রস্টার বানিয়ে জেলাশাসক বিভু গোয়েলকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সপ্তাহে মাত্র এক দিন জেএনএমের চিকিৎসকেরা কোভিড হাসপাতালে ডিউটি করবেন। বাকি দিন জেলা হাসপাতাল-সহ স্বাস্থ্য দফতরের অন্য হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সেখানে পরিষেবা দেবেন। সেই রস্টারের প্রতিলিপি পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও নদিয়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় পাঠানো হয়েছে। জেএনএমের মেডিক্যাল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক কৌস্তভ চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, তাঁদের হাসপাতালে ১১৫ জন চিকিৎসক ২১টি বিভাগ চালান। কোভিড হাসপাতালে যে আটটি বিভাগের চিকিৎসকদের নেওয়া হয়েছে তাতে জেএনএমের ৫১ জন চিকিৎসক রয়েছেন। এই ভাবে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে তুলে নিলে হাসপাতালটাই বন্ধ হয়ে যাবে। মেডিক্যালের পঠনপাঠনও মার খাবে। কৌস্তভবাবুর অভিযোগ, ‘‘জেলা স্বাস্থ্য দফতর তো ওদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তালিকাই প্রকাশ করছে না। শুধু আমাদের ডাক্তারদের নিয়ে টানাটানি করছেন। আমরা বলছি না যে, কোভিডের ডিউটি করব না। কিন্তু স্বাস্থ্য দফতরের অধীন চিকিৎসকদেরও সমানুপাতিক হারে ওই হাসপাতালে ডিউটি দেওয়া হোক।’’ তাঁদের আরও অভিযোগ, কোভিডের জন্য হওয়া স্বাস্থ্যবিমান অধীনে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকেরা থাকলেও তাঁরা নেই।
অন্য দিকে, জেলা হাসপাতালেরও দাবি, তাঁদের হাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কম। ফলে নিজস্ব চিকিৎসা পরিকাঠামো সামলে কোনও ভাবেই কোভিড হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠামো সম্ভব নয়। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, সব হাসপাতাল মিলিয়ে জেলায় তাদের হাতে মেডিসিনের চিকিৎসক আছেন ১২ জন, শিশু বিশেষজ্ঞ ১৫ জন ও অ্যানাস্থেসিস্ট ১৪ জন। এর মধ্যে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে মেডিসিনের ডাক্তার রয়েছেন মোটে ৬ জন। তাঁদের নিজস্ব ইনডোরের পাশাপাশি ৬৫ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড সামলে কৃষ্ণনগরে ১০০ শয্যার সারি হাসপাতাল সামলাতে হচ্ছে। জেলা হাসপাতালের ৭ জন শিশু বিশেষজ্ঞ ও ৫ জন অ্যানাস্থেসিস্ট আছেন। তাঁদেরও বিপুল কাজ সামলাতে হয়। ফলে জেলা হাসপাতাল থেকে কোভিড হাসপাতালের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তুলে নেওয়া সম্ভব না।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে আরও খবর, জেলার জনসংখ্যা এই মুহুর্তে প্রায় ৫৭ লক্ষ। কল্যাণী মহকুমা বাদ দিলে গোটা জেলার এই বিশাল জনসংখ্যাকে সামলাতে হয় স্বাস্থ্য দফতরের এই মুষ্টিমেয় কয়েক জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে। গ্লোকালের সারি ও কল্যাণীর কোভিড হাসপাতালের জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে জেলা থেকে ৬৬ জন ও জেএনএম ও গাঁধী থেকে ৫২ জন চিকিৎসক নেওয়ার
কথা বলা হচ্ছে। জেলার এক কর্তার কথায়, ‘‘বেশি স্পেশালিস্ট দেওয়া উচিৎ জেএনএমের। আমাদের বেশি দিতে হলে অনেক হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে হবে।’’