Coronavirus

করোনার আতঙ্কের মধ্যেও চিকিৎসক নেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে

করোনার ছায়া পড়েছে গাঁয়ের গভীরেও। নিভু নিভু গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির সামনেও ভয়ার্ত মানুষের আঁকাবাঁকা লাইন। কেমন আছে সেই সব অচেনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি, খোঁজ নিল আনন্দবাজার করোনার ছায়া পড়েছে গাঁয়ের গভীরেও। নিভু নিভু গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির সামনেও ভয়ার্ত মানুষের আঁকাবাঁকা লাইন। কেমন আছে সেই সব অচেনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি, খোঁজ নিল আনন্দবাজার

Advertisement

জীবন সরকার

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২০ ০২:০৮
Share:

নিমতিতা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নিজস্ব চিত্র

বিড়ি শ্রমিকদের জন্য তৈরি হয়েছিল নিমতিতা বিড়ি শ্রমিক কল্যাণ হাসপাতাল। ভারত সরকারের এই হাসপাতাল চিকিৎসকের অভাবে চার বছর ধরে ধুঁকছে। অথচ প্রায় হাজার পাঁচেক মানুষের ভরসা এই হাসপাতালটি। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক উদাসীনতায় তাঁরা ঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সব থেকে বড় কথা, করোনাভাইরাসের এই চরম সঙ্কটকালীন সময়েও বাড়ির কাছে চিকিৎসা না পেয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিড়ি শ্রমিকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এমনিতে হাতে কাজ নেই। তার উপরে যাতায়াতে সমস্যা। তাই সাধারণ রোগ হলে যে হাসপাতালটির উপরে তাঁরা ভরসা করতেন, সেটি বন্ধ থাকায় বিপদ বাড়ছে। হাসপাতালটি খোলা থাকলে, এলাকার অবস্থা আরও ভাল বোঝা যেত। কেননা, অনের রোগীই দূরে যেতে চান না। তাঁদের রোগ ধরাও পড়ছে না তাই।

Advertisement

সত্তরের দশকে শমসেরগঞ্জ ও সুতির মধ্যবর্তী স্থানে তৈরি হয় অবস্থিত নিমতিতা বিড়ি শ্রমিক কল্যাণ হাসপাতাল। শেরপুর, ডিহিগ্রাম, কলোনি, তেনাউড়ি নিমতি, অরঙ্গাবাদ সহ প্রায় দশটি গ্রামের মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। নির্মাণ ও উদ্বোধনের পর প্রথম দিকে হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও এখন নিজেই ধুঁকছে। রোগী থাকলেও নেই চিকিৎসক। ঠিক মতো পাওয়া যায়না ওষুধ।

স্থানীয় বাসিন্দা মানজারুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, তানজেরা বিবিরা অভিযোগের সুরে জানান, বছরের অন্য সময় চিকিৎসক থাকেন না, কিন্তু করোনাভাইরাস সংকটের এই কঠিন সময়েও তাঁরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। গাড়ি ঘোড়া বন্ধ থাকায় তাঁরা চরম সমস্যায় পড়েছি। যদি বা কেউ যান, তিনি তো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। এই সঙ্কটকালীন সময়েও হাসপাতাল না খোলায় তীব্র ক্ষোভ তাঁদের। অবিলম্বে হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। সিটুর জেলা সভাপতি আজাদ আলি বলেন, ‘‘নিমতিতা বিড়ি শ্রমিক হাসপাতালে সুতি ১, সুতি ২, রঘুনাথগঞ্জ ব্লকের ও শমসেরগঞ্জের কিছু অংশের বিড়ি শ্রমিকদের চিকিৎসা ও বিড়ি ওয়েলফেয়ারের কাজ হোত এখানে। বর্তমানে সব বন্ধ। একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে কোনও মতে চলছে হাসপাতালটি। শুধু এই হাসপাতাল নয় তারাপুরের হাসপাতালের অবস্থা একই। এখানে সব রকম কাঠামো থাকা সত্ত্বেও শুধু ডাক্তারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি।’’ এ বিষয়ে ধুলিয়ান কেন্দ্রীয় হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সিএমও ডা.অমিতাভ আড্ডি বলেন, ‘‘নিমতিতা হাসপাতালে সপ্তাহে একদিন তারাপুর থেকে ডাক্তার যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি দিনগুলো ফার্মাসিস্টরাও রোগ খতিয়ে দেখে ওষুধ দেবেন।’’

Advertisement

বিড়ি মহল্লার প্রশ্ন, আর কত বঞ্চনা তাঁদের সহ্য করতে হবে?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement