Coronavirus in West Bengal

সপ্তাহে তিন দিন অন্তত চিকিৎসক

করোনার ছায়া পড়েছে গাঁয়ের গভীরেও। নিভু নিভু গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির সামনেও ভয়ার্ত মানুষের আঁকাবাঁকা লাইন। কেমন আছে সেই সব অচেনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি, খোঁজ নিল আনন্দবাজারকৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতাল সূত্রে খবর, লালগোলা ব্লকে মোট দু’টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে।

Advertisement

মৃন্ময় সরকার

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৩
Share:

ছবি: পিটিআই।

ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাড়ে ন’টা সবে ডাউন লালগোলা শিয়ালদহ প্যাসেঞ্জার পিরতলা স্টেশনে দাঁড়িয়েছে। হুড়মুড়িয়ে এক দল মানুষ কেউ ট্রেনে উঠে পড়লেন। লালগোলা পিরতলা, আইড়মারি ও আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের কোনও মানুষের জ্বরজ্বালা হলেই এই ভাবে সকালের ট্রেন ধরে পয়সা ও সময়ের অপচয় করে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে ছুটে যাওয়া সকলের কাছেই খুব চেনা চিত্র। অথচ আইড়মাড়িতে একটা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে। তবে, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবশ্য অভিযোগের শেষ নেই। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দেওয়াল জুড়ে শ্যাওলার দাগ পলেস্তারা খসে পড়া এমনিতেই বহু বছর পুরনো স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওই ভবন দেখলে মনে হয় পরিত্যক্ত কোনও বাড়ি। ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়মিত খোলে নিয়মিত একজন নার্স, ফার্মাসিস্ট ও সাফাই কর্মী আসলেও দেখা মিলত না ডাক্তারের। কাজেই গ্রামের লোকজন ছুটে যেতেন লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে। আর যাঁরা নেহাতই সকালের ট্রেন ও বাস পান না তাঁরা উপায় না পেয়ে ফার্মাসিস্টকে দেখিয়েই ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরতেন।

Advertisement

অবস্থা একটু ফিরেছে লকডাউনের সময়। স্থানীয় বাসিন্দা তথা লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আলতুনিয়া হাসান বলেন, ‘‘এই এক মাস থেকে সপ্তাহে তিন দিন করে চিকিৎসক আসায় মানুষের একটু উপকার হয়েছে। না হলে তো সেই সকালের ট্রেন ধরে লালবাগ মহকুমা হাসপাতাল ছাড়া তো উপায় থাকে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার দেওয়ার জন্য ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে বহু বার জানানোও হয়েছিল। অবশেষে করোনার জেরে অন্তত ডাক্তার তো এলেন।’’

কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতাল সূত্রে খবর, লালগোলা ব্লকে মোট দু’টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। একটি আছে রাজারামপুরে আর একটি আছে আইড়মাড়িতে। রাজারামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সর্বক্ষণের জন্য একজন চিকিৎসক রয়েছেন কিন্তু আইড়মারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও ডাক্তার ছিলেন না। কাজেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালাতেন এক জন ফার্মাসিস্ট। এদিন লালগোলা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য সাহা বলেন, ‘‘ব্লকে ডাক্তারের ঘাটতি রয়েছে। কাজেই স্বাস্থ্য দফতরের নিয়ম অনুযায়ী সব করা হচ্ছে। রাজারামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তারকেই এখন আইড়মাড়িতে পাঠানো হচ্ছে। উনিই এখন তিন দিন রাজারামপুরে ও তিন দিন আইড়মাড়িতে চিকিৎসা করছেন।’’

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দা খুরশেদ শেখ বলছেন, ‘‘নামেই আইড়মারিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল। আগে ডাক্তার কোনও দিনই আসতেন না। আর তিনবার টোটো বদলি করে কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতালে যেতে যা খরচ, তা থেকে অর্ধেক খরচে লালবাগ মহকুমা হাসপাতাল পৌঁছে যাওয়া যায়। সেখানে চিকিৎসাটাও খুব ভাল মেলে।’’ কিন্তু করোনার আর লকডাউনের জেরে এখন সপ্তাহে তিন দিন করে চিকিৎসক আসছে আইড়মারি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। চিকিৎসক আসার পর থেকে রোগীরাও আসছেন সেখানে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement