Coronavirus

সংক্রমণ এখনও তুলনায় কম, জেলা সদর কি নিরাপদ?

র্যান্ডাম স্যাম্পেল টেস্ট করা হলে হয়তো কয়েক মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

Advertisement

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২০ ০৫:৫২
Share:

প্রতীকী ছবি।

এখনও পর্যন্ত মাত্র এক জন আক্রান্ত। কোভিড-হানার পরিসংখ্যানের নিরিখে জেলায় আপাতত সবচেয়ে নিরাপদ এলাকা জেলা সদর কৃষ্ণনগর। পার্শ্ববর্তী পঞ্চায়েত গুলির সঙ্গে তুলনা করলেও এখানে করোনা পরিস্থিতি অনেক ভাল। কারণ, কৃষ্ণনগর-১ ব্লকেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত মাত্র ৪।

Advertisement

তবে স্বাস্থ্যকর্তারা এতে নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। কারণ, জেলা জুড়ে যে ভাবে উপসর্গহীন আক্রান্তের সন্ধান মিলতে শুরু করেছে তাতে এই শহরের বুকেও যে এমন রোগীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন না, এমন নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। র্যান্ডাম স্যাম্পেল টেস্ট করা হলে হয়তো কয়েক মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। জেলার এক স্বাস্থ্য কর্তার কথায়, “অন্য পুরসভা এলাকার থেকে কৃষ্ণনগরে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কম। তাই আক্রান্তের সংখ্যা কম রয়েছে। কিন্তু এমন হতেই পারে যে, এখানে অনেকেই উপসর্গহীন করোনা রোগী। সেটা বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছে না।”

২ মে থেকে নদিয়ায় বিভিন্ন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকেরা বাস, লরিতে করে ফিরতে শুরু করেন। তেহট্ট-১ ও ২ ব্লক, চাপড়া, হাঁসখালি, শান্তিপুর, চাকদহের পাশাপাশি কালীগঞ্জ, রানাঘাট-২ ব্লকে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। শান্তিপুর, নবদ্বীপ, রানাঘাট, কল্যাণী পুরসভা এলাকাতাও আক্রান্তের সন্ধান মিলতে থাকে। কিন্তু কৃষ্ণনগরে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও আটকে রয়েছে সেই ১-এ। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কৃষ্ণনগর পুরসভার প্রশাসক তথা কৃষ্ণনগর সদর মহকুমাশাসক মণীশ বর্মা বলছেন, “আমরা ফিরে আসা শ্রমিকদের উপরে কড়া নজর রেখেছিলাম। একটাই কন্টেনমেন্ট জোন তৈরি হয়েছিল। মাত্র সাতটা বাড়ি নিয়ে। বাড়ি থেকে কাউকে বের হতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছিল।” তাঁর কথায়, “ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কৃষ্ণনগরের মানুষ অপেক্ষাকৃত সচেতন।”

Advertisement

এখানে উল্লেখ্য, লকডাউনের আগে থেকেই এই শহরের উপর দিয়েই বাড়ি ফিরেছেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক। শহরের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। শিলিগুড়ি বা কলকাতাগামী গাড়ির যাত্রীরা এই সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে খাওয়াদাওয়া করেছেন। কৃষ্ণনগরের স্টেডিয়ামে শিবির করে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাস, লরি বোঝাই করে পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর স্টেশনে নামা ট্রেনের যাত্রীদের এখান থেকে বাসে করে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। এই সব বাসের অধিকাংশ চালক ও সহকারীর বাড়ি কৃষ্ণনগর অথবা তার আশেপাশের এলাকায়। জেলা সদর শহর হওয়ায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অফিস-কাছারি, আদালতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন। আসছেন ব্যবসায়ীরাও। তার পরও কেন এই শহরে আক্রান্ত এখনও

এত কম?

স্বাস্থ্যকর্তাদের ব্যাখ্যায়, এই শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় সে ভাবে পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফেরেননি। ফিরলেও বেশির ভাগই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ রাজ্য থেকে ফিরেছেন। মহারাষ্ট্র, দিল্লি বা গুজরাতের মতো ‘রেড জোন’ থেকে ফেরে শ্রমিকের সংখ্যা এখানে অপেক্ষাকৃত কম। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “কৃষ্ণনগর শহরে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কম এবং কল্যাণীর মত এখানে বাইরের রেড জোন থেকে লোক ঢোকেনি। আক্রান্ত কম হওয়ার এটা কারণ হতে পারে।”

তবে এতে মোটেই নিশ্চিন্ত হচ্ছে না স্বাস্থ্যদফতর। যে কোনও মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে ধরে নিয়েই পুর-এলাকায় ওয়ার্ডগুলিতে শিবির করে লালারসের নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে উপসর্গহীন রোগী থাকলে তাঁদের চিহ্নিত করা যায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement