ফাঁকা: ঝড়ে উড়ল বাড়ির চাল। ইসলামপুরে। ছবি: সাফিউল্লা ইসলাম
ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হল বোরোধান-সহ সব্জি, পাট, আম ও লিচু। শুক্রবারের ঝড়ে ভেঙে পড়েছে বেশ কিছু গাছ। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বেশ এলাকা অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। তেহট্ট ১ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে পাট চাষে।
কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চাপাগাড়ার মাঠ, বেতাই, দক্ষিণ জিতপুর ও পাথরঘাটা এলাকার বেশ কিছু মাঠের পাট, ধান, কুমড়ো, কলা ও পেঁপের মতো ফসল সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেতাই এলাকার চাষি রতন সরকার বলেন, “আমার তিন বিঘা জমির পাট শিলাবৃষ্টিতে শেষ হয়ে গিয়েছে। শনিবার সকালে জমিতে গিয়ে দেখি একটি পাটের গাছও দাঁড়িয়ে নেই।”
রঘুনাথপুরের প্রশান্ত বিশ্বাসের কথায়, “তিন বিঘা জমি ভাগচাষের জন্য দিয়েছিলাম। সেই চাষি বেশ কিছু টাকা খরচ করে পাটের চাষ করেছিলেন। কিন্তু সে সব টাকাই তো জলে গেল।” তেহট্ট ১ ব্লকের কৃষি আধিকারিক আনন্দ মিত্র জানান, শুক্রবার রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের ভালই ক্ষতি হয়েছে। শনিবার থেকে কয়েকটি দল বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছে। ক্ষতির পরিমাণ তৈরি করে জেলায় জানানো হবে। তারপর সরকারি নিয়ম মতো চাষিরা ক্ষতিপূরণ পাবেন।
মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার জয়কৃষ্ণপুরে ঝড়ে দু’টো বটগাছ ভেঙে পড়ে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের উপরে। গাছের নীচে চাপা পড়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছগুলো সরানো যায়নি। শনিবার দুপুর পর্যন্ত স্বরূপপুর ও পদ্মনাভপুরে বিদ্যুৎ ছিল না। শিলাবৃষ্টিতে কান্দির খড়গ্রাম, বড়ঞা ও ভরতপুর ১ ব্লকে বোরোধান সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই কারণে জঙ্গিপুর, বহরমপুর, ডোমকল ও লালবাগ এলাকায় ক্ষতির মুখে পাটচাষ।
খড়গ্রামের চাষি অজিত মণ্ডল, লক্ষ্মী বাগদিরা বলছেন, ‘‘ধান ঘরে তোলার সময় হয়ে গিয়েছিল। শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল। লাভ তো দূরের কথা, খরচের টাকাও উঠবে কি না সন্দেহ।” মুর্শিদাবাদ জেলা কৃষি আধিকারিক তাপস কুন্ডু বলেন, “বোরো ধান তোলার সময় ও পাটচাষের সময় শিলাবৃষ্টি হলে চাষের অবশ্যই ক্ষতি। আমরা প্রাথমিক ভাবে ৩০শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা জেলা জুড়ে প্লট ভিত্তিক সার্ভে করে ক্ষতির পরিমান করাহবে।”
ডোমকলের ভগীরথপুর, ধুলাউড়ি-সহ ইসলামপুর, রানিনগর ও জলঙ্গির কিছু এলাকায় পাট ও সব্জি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রানিনগরের উপ কৃষি অধিকর্তা মিঠুন সাহা বলেন, ‘‘রানিনগরে বেশ কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। পাট ও সব্জি চাষে ক্ষতি হয়েছে।’’