ফাইল চিত্র।
তৃণমূল যে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’-এর দিকেই এগোচ্ছে, তা মোটামুটি স্পষ্ট। নদিয়ায় জেলাস্তরে অনেক নেতানেত্রী রয়েছেন যাঁরা একই সঙ্গে প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক পদে আছেন। এই নীতি রূপায়িত হলে তাঁদের যে কোনও একটি পদ ছাড়তে হবে।
তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পরে দলের সংগঠন ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী হয়েছে তৃণমূল। একই ব্যক্তির হাতে সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক একাধিক পদ থাকার চল এ বার উঠতে চলেছে। অনেকেই প্রশাসনিক পদে থাকার পাশাপাশি দলের সংগঠনেও গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। কিন্তু এক জনের হাতে একটি পদ থাকলে প্রশাসন এবং সংগঠন উভয় ক্ষেত্রেই গতি আসবে বলে মনে করছেন দলের নেতারা।
রাজ্যের কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস যেমন একই সঙ্গে জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদেও আছেন। দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডু অনেক আগে থেকেই তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। জেলা পরিষদেরই আর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ সহ- সভাধিপতির। সেই পদে থাকা দীপক বসু জেলা তৃণমূলের অন্যতম কোঅর্ডিনেটর। আবার দীর্ঘদিন ধরে দলের কৃষক সংগঠনের জেলা সভাপতি পদেও আছেন তিনি।
গত শনিবারের বৈঠকেই মহিলা এবং কৃষক সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বে বদল হয়েছে। এ বার বাকি পদাধিকারীদেরও বদল হবে কিনা সেটা দেখার।
জেলাস্তরের পদাধিকারীদের পাশাপাশি জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ চঞ্চল দেবনাথ একই সঙ্গে দলেaর হরিণঘাটা ব্লকেরও সভাপতি। জেলা পরিষদের নারী ও শিশুকল্যাণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ বর্ণালী দে রানাঘাট ২ ব্লক মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী। রানাঘাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাপস ঘোষ আবার ওই ব্লকেরই দলীয় সংগঠনেরও সভাপতি।
তৃণমূলের একাধিক পঞ্চায়েত প্রধান যুব বা অন্য সংগঠনের পদেও আছেন। ব্লক এবং পঞ্চায়েত স্তরেও একাধিক নেতানেত্রী আছেন যাঁরা একাধিক পদে রয়েছেন। সেই সমস্ত পদেও কি রদবদল আসন্ন?
দলীয় সংগঠনের জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষেত্রেই শুধু তা প্রযোজ্য হবে, নাকি অন্য শাখা সংগঠন এবং ব্লক বা শহরের ক্ষেত্রেও তা হবে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। তবে ধীরে ধীরে তা জেলায় কার্যকর করা হবে বলে দলীয় সূত্রে দাবি।
দলের সংগঠনে যুক্ত একাধিক নেতা অবশ্য একে স্বাগতই জানাচ্ছেন। জেলার একাধিক নেতার কথায়, এই নীতি কার্যকর হলে আগামী দিনে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার সম্ভাবনা যেমন তৈরি হবে, তেমনই এক জন একটি পদে থাকলে তিনি সেই কাজেই যথেষ্ট সময় দিতে পারবেন। একাধিক পদ যাঁদের আছে, তাঁদের কোন পদ রাখা হবে আর কোনটা রাখা হবে না তা নেতৃত্বই স্থির করবেন। জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান ও রাজ্যের কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, “সমস্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নেবেন। আমাদের যাকে যা দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমরা সেটাই পালন করব।”
আর রিক্তা, দীপকেরা বলছেন, “দলের অনুগত সৈনিক হিসাবে এতদিন দল যা দায়িত্ব দিয়ে এসেছে তা পালন করে এসেছি। এবারেও তাঁর অন্যথা হবেনা।”