ছবি সংগৃহীত
করোনার আশঙ্কায় কোয়রান্টিনে চলে গিয়েছিলেন শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৬ চিকিৎসক। কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ওই বিভাগে। রোগী ভর্তি হচ্ছিল না। মেডিসিন আউটডোরও বন্ধ হয়েছিল। সোমবার তাঁদের মধ্যে ৫ জন চিকিৎসকের রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে হাসপাতালে। সোমবার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে আউটডোর। মেডিসিন ওয়ার্ডে রাউন্ড দেওয়া শুরু করে দিয়ছেন ওই চিকিৎসকেরা। আইসোলেশন ও কোভিড হাসপাতালেও তাঁরা রোগী দেখা শুরু করেছেন বলে দাবি করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে ষষ্ঠ জনের রিপোর্ট ‘ইনভ্যালিড’ আসায় সোমবার নতুন করে তাঁর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।
শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক তরুণ চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর সংস্পর্শে আসা মেডিসিন বিভাগের অন্য ৬ চিকিৎসকের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি বন্ধ হয়ে যায়। রোগীদের রেফার করা হতে থাকে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে। তবে শনিবার থেকে অভিজ্ঞ কিছু চিকিৎসকের উপর মেডিসিন ওয়ার্ড, আইসোলেশন ওয়ার্ড ও কোভিড হাসপতালের চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রোগীদের হয়রানি থামেনি বলে অভিযোগ।
ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসার জন্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক-সহ আরও কিছু কর্তাকে নিভৃতবাসে যেতে হয়েছিল। রবিবার রাতে জেলা হাসপাতালের সুপার, সহকারি সুপার, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও অন্য জেলা কর্তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তার পর সোমবার নেগেটিভ রিপোর্ট আসে ৫ চিকিৎসকের। তাতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন কর্তারা।
সোমবার শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের মেডিসিন আউটডোরে প্রায় দেড়শো জন রোগীকে দেখা হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন। সুপার শচীন্দ্রনাথ সরকার বলছেন, “পাঁচ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ফলে হাসপাতালে পরিষেবা নিয়ে আর কোনও সমস্যা নেই।”
এরই মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন রানাঘাট মনোরমা হাসপাতালে ডায়ালিসিস নেওয়া এক রোগীর স্ত্রী। তিনি উপসর্গবিহীন বলে শান্তিপুর বেলগড়িয়া-১ পঞ্চায়েতে নিজের বাড়িতেই আইসোলেশনে রয়েছেন। তাঁর স্বামীর রিপোর্ট অবশ্য নেগেটিভ এসেছে। প্রচুর চিকিৎসক-কর্মী পজিটিভ হওয়ায় আপাতত ওই হাসপাতালটি বন্ধ রয়েছে। সেখানে শুধু ডায়ালিসিস চলছে। সোমবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন রানাঘাট ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা এবং তাঁর স্বামী। বর্তমানে ধানতলা থানার সলুয়া এলাকায় নিজেদের বাড়িতেই রয়েছেন তঁরা।
রানাঘাট ২ নম্বর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ রায় বলেন, “ওঁরা দু’জনেই উপসর্গহীন। তাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন পরিবারের এমন চার জনের ও বাইরের এমন ১৫ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের লালারস পরীক্ষা করা হবে।”