—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পয়লা বৈশাখের আগে শেষ রবিবার। তবু জেলা জুড়ে সেলের বাজারে অন্য বারের মতো ভিড় চোখে পড়ল না। তীব্র গরম পড়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, বিধানসভা ভোটের আবহবেচাকেনার এই হালের জন্য দায়ী।
গত এক মাস ধরে সেলের বাজার ধুঁকছে। সকালের দিকে বাজারে ক্রেতার দেখা মিলছে না। সন্ধের পরেও গুটিকয়েক ক্রেতা আসছেন। শনিবার কয়েকটি বাজারে কিছু ক্রেতা গিয়েছেন। এ দিন বিকেলের পরেও ক্রেতার দেখা মেলে কয়য়েকটি এলাকার বাজারে। বিক্রেতাদের একাংশ জানান, অন্য বছর পয়লা বৈশাখের সাতদিন আগে থেকেই বাজারে ক্রেতার ভিড়ে পা রাখা দায় হয়ে ওঠে। এ বার সেই ভিড় এখনও দেখা যায়নি। যাঁরা আসছেন তাঁদের অধিকাংশই মহিলা ক্রেতা। যে সমস্ত পোশাকে ছাড় বেশি সেই সবের বিক্রি কিছুটা হচ্ছে। কান্দি মহকুমায় গত কয়েক দিন ধরে চৈত্র সেলের বাজার জমে উঠছিল না। গত দু’দিন সামান্য বিক্রিবাটা হয়েছে। বেলডাঙার বস্ত্র ব্যবসায়ীদের দাবি, ইদে বিক্রিবাটা ভাল হলেও সেলের বাজার জমেনি। বেলডাঙার পোশাক ব্যবসায়ী তরুণ দে বলেন, ‘‘ইদের সময় বিক্রিবাটা ভাল হয়েছিল। তবে সেলের বাজার সে ভাবে জমেনি। কিছুটা উন্নতি হয়েছে চৈত্রের শেষ সপ্তাহে।’’
মুর্শিদাবাদ শহরের এক পোশাক ব্যবসায়ী তাপস মোদক বলেন, ‘‘বিক্রিবাটা হচ্ছে, তবে তা খুশি হওয়ার মতো বেশি নয়। অন্য বছর এই সময় ক্রেতার ভিড়ে দম ফেলার ফুরসত মেলে না। তীব্র গরম এই অবস্থার জন্য দায়ী। তার সঙ্গে অন্য কারণও থাকতে পারে বলে মনে হয়।’’
কান্দিতে এ বার গরমের সঙ্গেই সেলের বাজার না জমে ওঠার পিছনে চাষের ক্ষতিও কারণ। সেখানকার অধিকাংশ কৃষক আলু চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পারেননি। ইদে কেনাকাটা হলেও সেলের বাজারমুখী হননি ওই সব ক্রেতারা। বহরমপুরের ব্যবসায়ী অমিত রায় বলেন, ‘‘গত দু’দিন বিকেলের পরে আমার দোকানে কিছু ক্রেতা এসেছেন। তবে চৈত্র সেলের বাজার প্রতি বছর যেমন হয়, এ বছর তেমন জমেনি।’’
তবে একেবারে যে ক্রেতা আসছেন না, তা নয়। এ দিন একটি বাজারে আসা ক্রেতা পুষ্পিতা হালদার বলেন, ‘‘ছুটির দিন বলে বাজারে এসেছি। দিনেরবেলা রোদে বেরনো যাচ্ছে না। রোদ পড়লে বিকেলের পরে বাজারে বেরিয়েছি।’’ বহরমপুরের বস্ত্র ব্যবসায়ী শেখর মারোঠী বলেন, ‘‘বেশি ভিড় হচ্ছে না। বিক্রিবাটা মোটামুটি। গ্রামীণ এলাকা থেকে ক্রেতা আসা কম।’’ ডোমকল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক আফাজুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘‘সেলের বাজার জমেনি। অন্য বছরে এই সময়ে ভিড়ের পা রাখা যায় না।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে