রুকবানুর রহমান। নিজস্ব চিত্র
দীর্ঘক্ষণ পিছিয়ে থাকার পর টানটান লড়াইয়ে পলাশিপাড়ায় শেষমেশ জয়ী হয়েছেন তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান। কিন্তু গত বিধানসভার নিরিখে ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান অনেকখানি কমে গিয়েছে। কোথায়, কী কারণে ভোট কমল তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়েছে চর্চা।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পলাশিপাড়া কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মানিক ভট্টাচার্য ৫১ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। সেখানে নিকটতম বিজেপি প্রার্থীর থেকে রুকবানুরের জয়ের ব্যবধান নেমে এসেছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজারে। ফলাফলের পঞ্চায়েত-ভিত্তিক হিসাব বলছে, অধিকাংশ পঞ্চায়েতে ‘লিড’ ধরে রাখতে পারেনি তৃণমূল। আবার বেশ কিছু পঞ্চায়েতে তাারা এগিয়ে থাকলেও মার্জিন কমেছে।
তেহট্ট ২ ব্লকের সাতটি, নাকাশিপাড়া ব্লকের চারটি ও তেহট্ট ১ ব্লকের দু’টি— মোট এই ১৩টি পঞ্চায়েত নিয়ে পলাশিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র। এর মধ্যে তেহট্ট ২ ব্লকের বিজেপি ঘেঁষা সাহেবনগর পঞ্চায়েতে গত বার ১১৬৭ ভোটের ‘লিড’ পেয়েছিল তৃণমূল। এ বার সেখানে তারা ২,৭৬৮ ভোটে পিছিয়ে গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থী অণিমা দত্তের নিজের পঞ্চায়েত এলাকা হাঁসপুকুরিয়ায় গত বার তৃণমূলের ৫৮৬ ভোটের ‘লিড’ ছিল, এ বার সেখানে বিজেপি তিনগুণ ভোট বাড়িয়েছে। ২,১৫৭ ভোটে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। গোপীনাথপুর, পলশুন্ডা ২, বার্নিয়া এবং পলাশিপাড়া পঞ্চায়েতেও কার্যত একই পরিস্থিতি।
গত বার নাকাশিপাড়া ব্লকের হরনগরে ১৭,০৩৮ ভোটে এগিয়ে ছিলেন মানিক। তার অর্ধেকেও পৌঁছতে পারেননি রুকবানুর, মাত্র ৭৮২৩ ভোটে ‘লিড’ পেয়েছেন তিনি। বিলকুমারি ও ধনঞ্জয়পুর পঞ্চায়েতেও একই হাল। ২০২১ নির্বাচনে এই দুই পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ‘লিড’ ছিল যথাক্রমে ৪,৬৮০ এবং ৮,০৮১। রুকবানুর পেয়েছেন যথাক্রমে ২৮১ ও ৪৩৯০ ভোটের ‘লিড’।
এত ব্যবধান কমার কারণ কী?
তৃণমূলের একাংশের ব্যাখ্যা, প্রথমত এটা রকবানুরের ‘নিজের কেন্দ্র’ নয়। এর আগে তিন বার তিনি যে কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন, সেই চাপড়া থেকে তাঁকে সরিয়ে আনা হয়েছে। তার উপরে এ বার প্রায় সর্বত্র হিন্দু ভোটের প্রবল মেরুকরণ হয়েছে, যা বিজেপির পক্ষে গিয়েছে। তৃণমূল যে একচেটিয়া মুসলিম ভোট পেত, তারও পুরোটা তারা ধরে রাখতে পারেনি। বামফ্রন্ট এই কেন্দ্রটি জোটসঙ্গী আইএসএফ-কে ছেড়েছিল, তাদের প্রার্থী ৩৪,৫৯১ ভোট পেয়েছেন।
তা ছাড়া, স্কুল নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় জেল খাটলেও স্থানীয় বাসিন্দা তথা তৃণমূল সমর্থকদের একাংশের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন ভূমিপুত্র মানিক। এলাকার উন্নয়ন খাতে তিনি বহু টাকা খরচও করেছেন। অথচ এই ভোটে তাঁকে কার্যত ব্রাত্য করে রেখেছে দল, যা একটা অংশ ভাল ভাবে নেয়নি। শুধু মানিক নন, আরও বেশ কিছু পুরনো নেতাকর্মীকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ভোটে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল না। সব মিলিয়ে বিভিন্ন বুথে ভরাডুবি হয়েছে বলে তৃণমূলের নেতাদের একাংশের আক্ষেপ।
তবে রুকবানুরের বক্তব্য, “নেতাকর্মীদের কিছু কথা ঠিক, কিছু ঠিক নয়। প্রার্থী ঘোষণার পরে সময় কম ছিল। তার উপর এসআইআরে বৈধ নাম কাটা গিয়েছে, তাদের বেশির ভাগ আমাদের ভোটার ছিলেন।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে