বিমলেন্দু সিংহ রায়। —ফাইল চিত্র।
কয়েক জন উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পিছনে ছিল বিধায়কের গাড়ি। হর্ন দেওয়ার পরেও সাইকেল আরোহী পড়ুয়ারা রাস্তা থেকে সরেননি। তাই গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের গায়ে হাত তুলেছেন বিধায়ক। এমনই অভিযোগে উত্তেজনা নদিয়ার করিমপুরের মুরুটিয়া থানা এলাকায়। যদিও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন করিমপুরের তৃণমূল বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, রবিবার সন্ধ্যায় মুরুটিয়ার বালিয়াডাঙা এলাকায় টিউশনি পড়ে সাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন কয়েক জন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। ওই সময় দলীয় কর্মসূচি সেরে ওই রাস্তা দিয়েই ফিরছিলেন বিধায়ক বিমলেন্দু।
বিধায়কের তরফে দাবি, চালক বারবার হর্ন দিলেও রাস্তা ছাড়েননি পড়ুয়ারা। অভিভাবকদের দাবি, সংকীর্ণ রাস্তা ছিল। পড়ুয়াদের করণীয় কিছু ছিল না. কিন্তু বিধায়ক মেজাজ হারিয়ে তাঁদের সঙ্গে বচসায় জড়ান এবং কয়েক জনকে চড়-থাপ্পড় কষান।
গন্ডগোলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হয়ে কী ভাবে সামান্য কারণে পড়ুয়াদের গায়ে হাত তোলেন বিমলেন্দু? তাঁদের দাবি, বিধায়ককে ক্ষমা চাইতে হবে। ওই দাবিতে বাড়ির সামনে কিছু ক্ষণ বিক্ষোভও চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যায় মুরুটিয়া থানার পুলিশ। দীর্ঘ ক্ষণ পর পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভ উঠে যায়।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল বিধায়ক। তিনি বলেন, “আমি কারও গায়ে হাত তুলিনি। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছিলাম মাত্র। সেই সময় বিজেপির কয়েক জন নেতা গিয়ে আমাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন। আমাকে হেয় করার জন্য বিরোধীদের চক্রান্ত।”
পাল্টা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নিজের দোষ ঢাকতে এখন রাজনীতি টানছেন বিধায়ক। তিনি এখানেও চক্রান্তের গল্প ফাঁদছেন। সবমিলিয়ে চাপানউতর তুঙ্গে।