Hong Kong Incident

হংকঙের চিন-বিরোধী শিল্পপতির ২০ বছরের জেল! বিরোধিতায় সরব আন্তর্জাতিক মহল, কী বলল বেজিং?

২০২০ সালে চিনের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয় জিমিকে। ২০২৫ সালে তাঁকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলায় সোমবার রায় ঘোষণা করা হল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫০
Share:

জিমি লাই। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হংকঙের শিল্পপতি জিমি লাইকে ২০ বছরের জন্য জেলে পাঠাল সেখানকার একটি আদালত। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির তীব্র সমালোচক জিমি এক সময় অ্যাপল ডেলি বলে একটি সংবাদপত্র প্রকাশ করতেন। সেই সংবাদপত্রে চিনের কমিউনিস্ট সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করে নিবন্ধ প্রকাশিত হত। সোমবার সেই জিমিকে চিনের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ২০ বছরের জন্য জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেয় হংকঙের একটি আদালত।

Advertisement

২০২০ সালে চিনের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয় জিমিকে। ২০২৫ সালে তাঁকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলায় সোমবার রায় ঘোষণা করা হল। সেখানে বলা হয় ৭৮ বছর বয়সি জিমিকে পরবর্তী ২০ বছর জেলেই কাটাতে হবে। জেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্যারোলেও মুক্তি পাবেন তিনি। জিমির বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করে হংকঙের ওই আদালত জানিয়েছে, বিদেশি শক্তির সঙ্গে চিন-বিরোধী ষড়যন্ত্রে শামিল ছিলেন জিমি।

আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিমি। তাঁর বক্তব্য, তিনি এক জন রাজনৈতিক বন্দি। জিমিকে ২০ বছরের জন্য জেলে পাঠানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারও। ‘কমিটি অফ প্রোটেক্ট জার্নালিজ়ম’-এর সিইও জোডি গিন্সবার্গ এই প্রসঙ্গে বলেন, “হংকঙে আইনের শাসন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আজকের ঘটনা হংকঙে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কফিনে শেষ পেরেক।”

Advertisement

প্রসঙ্গত, হংকং চিনের দক্ষিণে অবস্থিত আধা স্বায়ত্তশাসিত একটি অঞ্চল। ১৯৯৭ সালের আগে পর্যন্ত হংকং ছিল ব্রিটেনের দখলে। চিনের মূল ভূখণ্ডে জন্ম হলেও তরুণ বয়সেই হংকঙে চলে গিয়েছিলেন লাই। সেখানেই তিনি বস্ত্র বিপণী গড়ে তোলেন। পরে তৈরি করেন নিজস্ব মালিকানাধীন সংবাদপত্র ‘দ্য অ্যাপল ডেলি’। একাধিক বার হংকঙের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে শামিল হয়েছেন তিনি। কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন চিনের প্রশাসনকে। জিমির ব্রিটিশ নাগরিকত্বও রয়েছে।

জিমির জেলযাত্রাকে আন্তর্জাতিক মহল ‘সংবাদমাধ্যমের উপর আঘাত’ হিসাবে ব্যাখ্যা করলেও চিনের বক্তব্য, সে দেশের নিরাপত্তাগত কারণেই গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। বেজিঙের তরফে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশগুলিকে নাক না-গলানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। জিমির পরিবার এবং সমর্থকদের দাবি, হংকঙের আদালত কার্যত মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে। তাঁদের ব্যাখ্যা, ৭৮ বছর বয়সি অসুস্থ জিমিকে ২০ বছরের জন্য জেলে পাঠানোর অর্থ, কোনও দিনই আর সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement