যোগী আদিত্যনাথ । ফাইল চিত্র।
চৈতন্যভূমি নবদ্বীপের জনসভায় মহাপ্রভুর আবির্ভাবের সাল ভুল বলায় বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়লেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শনিবার নবদ্বীপে বিজেপি প্রার্থী শ্রুতিশেখর গোস্বামীর সমর্থনে নবদ্বীপে জনসভা তিনি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব ১৮৮৬ সালে। অথচ চৈতন্যদেবের আবির্ভাব ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে। খোদ চৈতন্যদেবের শহরে দাঁড়িয়ে তাঁকে নিয়ে ভুল তথ্য পরিবেশন ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল। রবিবার একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে নবদ্বীপ শহর তৃণমূল সভাপতি সুজিত সাহা বলেন, “চৈতন্যদেবকে নিয়ে প্রকাশ্য সভায় ভুল তথ্য পরিবেশন করে মহাপ্রভু তথা বৈষ্ণবসমাজকে অপমান করা হয়েছে। নবদ্বীপের মানুষ হিসাবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
তাঁর অভিযোগ, “নবদ্বীপের প্রার্থী নিজে এক জন বৈষ্ণব হয়েও কোনও প্রতিবাদ করেননি। এমনকি সভা হয়ে যাবার গোটা একটা দিন কেটে যাওয়ার পরেও দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমাপ্রার্থনা করেনি।”
নবদ্বীপের তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস সভাপতি মণিকা চক্রবর্তী বলেন, “উনি এমন ভুল মন্তব্য করতেই অভ্যস্ত। ক’দিন আগেই বলেছিলেন ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’ এ কথা নাকি স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন। বাঙালির ঐতিহ্যকে অসম্মান করাই ওদের কাজ। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
যদিও এ প্রসঙ্গে নবদ্বীপের বিজেপি প্রার্থী শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, “যোগীজির বক্তব্য শুনলেই বোঝা যাবে ইচ্ছে করে উনি এ কথা বলেননি। অনেক সময় আমাদের কথা বলার মুহূর্তে কিছু শব্দ অনিচ্ছাকৃত ভাবে ভুলবশত বলা হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওঁকে বিষয়টি জানিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “এমন ভুল তথ্য পরিবেশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো নিয়মিত করেন। ক’দিন আগেই বলেছেন জালিয়ানওয়ালা বাগের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মহাত্মা গান্ধী নাইটহুড উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। তখন তৃণমূল ক্ষমা চেয়েছিল নাকি? বলেছিলেন, ১৯৪৭ সালে মহাত্মা গান্ধীর অনশন ভাঙাতে রবীন্দ্রনাথ ফলের রস খাইয়ে ছিলেন। অথচ রবীন্দ্রনাথ মারা গিয়েছিলেন ১৯৪১ সালে। আসলে আদিত্যনাথের সভায় মানুষের ঢল দেখে তৃণমূল ভয় পেয়ে এ সব করছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে