শারদ সংখ্যা। গৌতম প্রামাণিকের তোলা ছবি।
শরৎ আসবে, আনন্দময়ীর আগমন ঘটবে অথচ ঐতিহ্যের শহর বহরমপুর থেকে শারদ সাহিত্যসম্ভার আত্মপ্রকাশ করবে না, এমনটা হতেই পারেন না। ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রেখে এ বারেও মহালয়া থেকে চতুর্থী পর্যন্ত মাত্র পাঁচ দিনে ডজন খানেক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে ঋত্বিক ঘটক-মণীশ ঘটকের শহর থেকে। কয়েক দিনের মধ্যে আরও কয়েকটি প্রকাশের অপেক্ষায়।
গত শনিবার সকালে বহরমপুর শহরের টেক্সটাইল মোড় লাগোয়া ব্যারাক স্কোয়ার মাঠের ‘চতুষ্কোণ পার্ক’- এ বসেছিল শারদ সাহিত্যের প্রকাশ অনুষ্ঠানের আসর। সেখানে প্রকাশিত হয় ৩টি গ্রন্থ। তাপস গুপ্ত ওরফে সাধন দাসের প্রথম গল্প সংকলেনর নাম ‘প্রথম গল্প সংকলন’ (শিল্প নগরী)। ৩২০ পাতার ঝকঝকে ওই গল্পগ্রন্থটি প্রকাশ করেন কবি অমিতাভ মৈত্র। ১৯৮০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত— অর্থাৎ ৩০ বছর ধরে লেখা সাধন দাসের ৩৫টি গল্পের ওই সংকলনে রয়েছে ৩৩টি মৌলিক গল্প। বাকি ২টি আলবেনিয়ার গল্পের অনুবাদ। বইটির ভূমিকা লিখেছেন কবি নাসের হোসেন আর গল্পকারের পরিচয়-কথা লিখেছেন কবি সমীরণ ঘোয। প্রচ্ছদ এঁকেছেন সাধন দাসের পুত্র, পেশায় চিকিৎসক সোনামন।
ওই অনুষ্ঠানে কবি অমিতাভ মৈত্রের কাব্যগ্রন্থ ‘সিআরপিসি’ (ধানসিঁড়ি) প্রকাশ করেন কবি সন্দীপ বিশ্বাস। ইংরাজি শব্দ ‘সিআরপিসি’র বাংলা মানে ভারতীয় দণ্ডবিধি। অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক অমিতাভ তাঁর পেশার সূত্রেই ‘সিআরপিসি’ নেড়েঘেটে দেখেছেন। তাঁর সেই অভিজ্ঞতার ফসল এই কাব্যগ্রন্থ। ৫৯টি কবিতার বইটির প্রচ্ছদ শিল্পী রাজদীপ পুরী। কবি সৈয়দ খালেদ নৌমান ‘ঝড়’ পত্রিকার শারদ সংখ্যাটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন কবি উৎপলকুমার গুপ্ত। কবি সমীরণ ঘোষের আঁকা প্রচ্ছদের শরৎকালীন ওই বিশেষ সংখ্যার অলঙ্করণ করেছেন চিত্রশিল্পী গৌরগোপাল ভৌমিক। ২৯০ পাতার সংখ্যাটিতে রয়েছে ১৫টি প্রবন্ধ, ১৫টি গল্প ছাড়াও অনেকগুলি কবিতা।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক উৎপলকুমার গুপ্ত একাধারে কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদকও। তাঁর সম্পাদিত ‘সময়’ পত্রিকা ৪৮ বছর ধরে নিরবিচ্ছিন ভাবে প্রকাশিত হয়ে চলেছে। ৪৮তম বছরের শারদ সংখ্যায় রয়েছে ৮টি প্রবন্ধ, ১৭টি গল্প ও কবিতা। ওই বিশেষ সংখ্যার প্রচ্ছদ ও নামাঙ্কন করেছেন কবি গোবিন্দ ত্রিবেদী। প্রচ্ছদে ‘৪৮ বর্ষ পূর্তি শারদ সংখ্যা ১৪২২’ লেখা থাকলেও সূচিপত্রে কিন্ত লেখা আছে ‘৪৯ বর্ষপূর্তি শারদীয় সংখ্যা ১৪২২’। ফলে পত্রিকার বয়স বিভ্রান্তি ঘটছে। মহালয়ার দুপুরে বহরমপুর শহরে ‘মুর্শিদাবাদ জেলা সাংবাদিক সঙ্ঘ’- এর সভাকক্ষের অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয়েছে সুব্রত হাজরা সম্পাদিত কবিতাপত্র ‘একুশে’। প্রচ্ছদ শুভজিৎ সার।
মহালয়ার বিকালে বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার মাঠ লাগোয়া ‘বনবিতান’- এ প্রকাশিত হয় কবিতা অধিকারী সম্পাদিত ‘অসৃক’ পত্রিকার শারদ সংখ্যা। প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ করেছেন অভিজিৎ সরকার। এক গুচ্ছ কবিতা ও ভ্রমণ কাহিনি ছাড়াও ওই শারদ সংখ্যায় রয়েছে ৫টি প্রবন্ধ এবং ৯টি গল্প। মহালয়ার সন্ধ্যায় বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে বসেছিল বাচিক শিল্পী ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক আবৃত্তির আসর। আয়োজক সংস্থা ‘বাচিক শিল্পের মুক্ত দিগন্ত’-র পক্ষে থেকে ওই আসরে প্রকাশ করা হয় ‘বিশেষ ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যা’। ওই সংখ্যায় ব্রততীর ৩টি লেখা ও একটি সাক্ষাৎকার ছাড়াও ব্রততীকে নিয়ে লিখেছেন বিশিষ্ট ৭ জন। এই লেখক তালিকায় রয়েছেন কবি জয় গোস্বামী, বাচিক শিল্পী জগন্নাথ বসু, গায়িকা ইন্দ্রানী সেন প্রমুখ।
সদ্য প্রকাশিত হয়েছে কবি নিলিমা সাহা সম্পাদিত ‘নিনি’-র শারদ সংখ্যা। ওই সংখ্যায় দুই বাংলার কবিদের গুচ্ছ কবিতার ছড়াছড়ি। গদ্য রয়েছে কেবল ২টি। প্রচ্ছদশিল্পী কৌশিক গুড়িয়া। গোপাল বাইন সম্পাদিত কাব্যপত্র ‘ঘাটপেরিয়ে’ প্রকাশিত হয়েছে। কবি বিনয় মজুমদারের একটি সাক্ষাৎকার ছাড়া বাকি সবই কবিতা। শারদ সাহিত্য সম্ভারে বহরমপুরের সঙ্গে টক্কর লড়ছে জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ, গোকর্ণ ও রঘুনাথগঞ্জও। কান্দির গোকর্ণ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘একটি আন্তর্জাতিক বার্ষিক দ্বিভাষিক সাহিত্য পত্রিকা’— ‘দেশকাল’। পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ওই সংখ্যায় রয়েছে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ।
কচিকাঁচাদের কথা ভেবে রঘুনাথগঞ্জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘ছোটদের কলরব’-এর শারদ সংখ্যা। মেধস ঋষি বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ওই সংখ্যাটিতে রয়েছে ছড়া, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ নাটিকা। প্রায় দেড়শো পাতার ওই পত্রিকার এ সংখ্যার প্রচ্ছদ এঁকেছেন সৈয়দ সুশোভন রফি। আজিমগঞ্জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে শারদীয়া ‘কাকলি’। শিশু-কিশোরদের খুশি রাখতে সুজিতকুমার পাত্র সম্পাদিত ওই সংখ্যায় রয়েছে নিবন্ধ, ছড়া, গল্প ও কবিতা। প্রচ্ছদ শিল্পী সৈয়দ সুশোভন রফি। দিন কয়েক আগে জিয়াগঞ্জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে সমীর ঘোষ সম্পাদিত ‘অনুভব’ পত্রিকার শারদ সংখ্যা। পত্রিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে ছিলেন বিশ্বভারতী ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক মানবেন্দ্রনাথ সাহা ও জহর সেন মজুমদার।