সুস্মিতা খুনে অভিযুক্তরা কোথায়?
যে ধারাল অস্ত্র দিয়ে বছর ছয়েকের ওই মেয়ের শ্বাসনালি কাটা হয়েছে, সেই অস্ত্র কি পুলিশ উদ্ধার করতে পেরেছে?
কেন খুন হল সুস্মিতা? ছোট্ট দু’টি সোনার দুলের জন্য? নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে?
প্রশ্ন অনেক। উত্তর নেই।
জেলার পুলিশ সুপার মুকেশ কুমারকে এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চেয়ে একাধিক বার ফোন করা হয়েছে। পাঠানো হয়েছে এসএমএস-ও। কিন্তু জবাব মেলেনি।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক অবশ্য বলছেন, ‘‘এ সব ছোট ব্যাপার, বিরক্ত করবেন না তো! আর বড় সাহেবকেই বা এত ফোন করার কী আছে। দেখতেই তো পাচ্ছেন, তদন্তে আমরা কোনও ফাঁক রাখছি না। দুষ্কৃতীদের ধরার চেষ্টা চলছে।’’
কেমন সেই তদন্তের বহর?
রবিবার সকালে কান্দির একটি পুকুরের পাশে বস্তাবন্দি অবস্থায় সুস্মিতা দাসের (৬) ক্ষতবিক্ষত দেহ মেলে। যে পড়শির বাড়ির পাশে ওই পুকুর ও যাঁদের বাড়িতে শনিবার ছোট বোনকে নিয়ে সুস্মিতা গিয়েছিল, সেই পড়শি দম্পতিকে রবিবারেই পুলিশ আটক করে। ওই দিনই আটক করা হয় সুস্মিতার ঠাকুর্দাকেও।
কিন্তু মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাঁদের কাউকেই পুলিশ গ্রেফতার করেনি। কেন? পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের সকলেই জেরা করে আসল ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অবশ্য পুলিশের এমন তদন্তের বহরে ক্ষুব্ধ।
তাঁদের প্রশ্ন, পুলিশ যাকেই সামনে পাচ্ছে, তাকেই ধরে আনছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। সোমবার ওই পড়শি দম্পতির বছর তিনেকের মেয়েকেও ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত প্রায় ষাট জনকে জেরা করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এ সব করতেই পারে। কিন্তু যে বা যারা এমন নৃশংস ভাবে মেয়েটিকে খুন করল পুলিশ তাদের গ্রেফতার করবে কবে? না কি এ সব করে পুলিশ মানুষের ক্ষোভকে চাপা দিতে চাইছে?