Special Intensive Revision

বৈধ নথি ছাড়া নাম ধরার চেষ্টায় কমিশনের ‘মার্কিং’

কী এই ‘মার্কিং’ পদ্ধতি? কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, মৃত, অনুপস্থিত, ঠিকানা বদল এবং ভুয়ো তালিকাভুক্ত প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে খসড়া তালিকা থেকে। এখন প্রায় ৩২ লক্ষ ‘আন-ম্যাপড’ এবং তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির (লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকাভুক্ত প্রায় ১.২০ কোটি ভোটারের শুনানি হচ্ছে।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪১
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুতির জট কাটাতে ‘মার্কিং’ দাওয়াই দিয়ে ইআরও-এইআরওদের উপর চাপ বাড়াল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পুনর্যাচাইয়ে গতি আনতে জেলাশাসকদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের মুক্ত করার সিদ্ধান্তও নিল দিল্লির নির্বাচন সদন। এসআইআর নিয়ে প্রশাসনের একাংশের ‘অসহযোগিতার’ রিপোর্ট পৌঁছেছে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে। তার পরেই এই জোড়া সিদ্ধান্তের কথা তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরকে।

কী এই ‘মার্কিং’ পদ্ধতি? কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, মৃত, অনুপস্থিত, ঠিকানা বদল এবং ভুয়ো তালিকাভুক্ত প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে খসড়া তালিকা থেকে। এখন প্রায় ৩২ লক্ষ ‘আন-ম্যাপড’ এবং তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির (লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকাভুক্ত প্রায় ১.২০ কোটি ভোটারের শুনানি হচ্ছে। শুনানি করে, ভোটারের নথি নিয়ে তা কমিশনের নিজস্ব সফটওয়্যারে আপলোড করতে হচ্ছে ইআরও এবং এইআরও-দের। সেগুলি পুনর্যাচাই করছেন রোল-পর্যবেক্ষকেরা। কিন্তু অভিযোগ, কমিশনের ছাঁকনি গলে বহু এমন নাম তালিকাভুক্ত হচ্ছে, যাঁদের বৈধ নথি নেই। দাখিল করা হচ্ছে না কমিশনের বিধিবদ্ধ ১৩টির মধ্যে একটি নথিও। এখন রোল-পর্যবেক্ষকেরা সেই সব নামকে চিহ্নিত (মার্কিং) করবেন। দাগিয়ে দেওয়া নামগুলি ফের চলে যাবে সংশ্লিষ্ট ইআরও এবং এইআরও-দের কাছে। তাঁদেরই সে সব সংশোধন বা নিষ্পত্তি করতে হবে।

কমিশনের কাছে ধরা পড়েছে, শুনানি এবং নথি আপলোড হয়ে গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলির নিষ্পত্তি করছেন না ইআরও এবং এইআরওদের বড় অংশ। অথচ তাঁদেরই দায়িত্ব, যোগ্য ব্যক্তির আবেদন মঞ্জুর করে মূল তালিকাভুক্ত করা এবং অযোগ্য আবেদন বাদ দেওয়া। কমিশনের কাছে এমন অভিযোগ এবং প্রমাণ দাখিল হয়েছে, যাতে বোঝা গিয়েছে যে ইআরও এবং এইআরওদের একাংশের উপর রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতনের চাপ কাজ করছে, যাতে কেউ কোনও অযোগ্য আবেদন বাতিল না করেন। ফলে যোগ্য-অযোগ্যের নিষ্পত্তি না হওয়ায়, সে সব জমতে শুরু করেছে সফটওয়্যারে। পর্যবেক্ষকদের পুনর্যাচাইয়ের কাজ গতি হারাচ্ছে। আবার আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

তবে আপলোড হওয়া সব নথি দেখতে পাচ্ছেন কমিশন-কর্তা এবং পর্যবেক্ষকেরা। তাই তাঁদের ‘মার্ক’ করে দেওয়া নামগুলি পৃথক ভাবে ইআরও এবং এইআরও-র কাছে চলে যাবে নিষ্পত্তির জন্য। তখনও নিষ্পত্তি না হলে, দাগিয়ে দেওয়া নামগুলি বাদ রেখেই তৈরি হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এক কর্তার কথায়, “আইন অনুযায়ী, অযোগ্য আবেদনগুলি বাদ দিতেই হবে ইআরও এবং এইআরওদের। তাঁরা তা না করলে তালিকা প্রকাশ করা যাবে না। ফলে এর সাংবিধানিক এবং আইনি দায় বর্তাবে সেই আধিকারিকদের উপরেই।”

সব জেলা মিলিয়ে প্রায় সাত হাজার মাইক্রো অবজ়ার্ভারকে ইআরও-এইআরওকে সমান্তরাল যাচাইয়ের কাজে নিয়োগ করেছিল কমিশন। এই অবজ়ার্ভারদের লগ-ইন আইডি তৈরি করে দেওয়ার কথা ছিল জেলা প্রশাসনগুলির। কিন্তু কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে পাঠানো রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশিরভাগ জেলা প্রশাসন তা তৈরি করতে চাইছে না। এই অবস্থায় দিল্লির নির্বাচন সদনের সিদ্ধান্ত, জেলাশাসকদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বার করে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের লগ-ইন আইডি তৈরি করে দেবে কমিশনই। ল্যাপটপ-সহ প্রযুক্তিগত সব সহায়তা দেবে তারাই। অবজ়ার্ভারেরা জেলাভিত্তিক এক বা একাধিক রোল-পর্যবেক্ষকের অধীনে যাচাইয়ের কাজ শুরু করবেন। ফলে প্রতিটি ভোটার-আবেদন এবং নথির বৈধতা খতিয়ে দেখে অযোগ্যগুলিকে ‘মার্কিং’ করা হবে অতি দ্রুত।

এক কর্তার কথায়, “ইআরও-এইআরওরা মনে করলে পর্যবেক্ষকদের কাছে জানাতে পারবেন তাঁদের যুক্তি। কিন্তু যে জট তাঁদের একাংশ তৈরি করেছেন, তা তাঁদেরই মেটাতে হবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন