জোটবদ্ধ: অসামাজিক কাজ রুখতে ক্লাবে। নিজস্ব চিত্র
পাড়ার ছেলেরা মাঝে মধ্যেই রাত পাহারা দিচ্ছেন৷ বলা হয়েছে পুলিশকেও৷ তবু এলাকায় কমছে না অসামাজিক কাজ৷ এই পরিস্থিতিতে এ বার জোটবদ্ধ হলেন এলাকার মহিলারাই৷ একেবারে ৭৮ জন মহিলা স্থানীয় ক্লাবে আর্জি জানালেন সদস্যপদ নেওয়ার জন্য৷ সেই মতো আজ, সোমবার থেকে ক্লাবের সদস্যপদ নিয়ে তাঁরাও পথে নেমে এলাকায় অসামাজিক কাজ রোখার সিদ্ধান্ত নিলেন৷
ঘটনাস্থল জলপাইগুড়ির মোহিতনগর৷ এলাকার বাসিন্দা করবী অধিকারী, গোপা চৌধুরীদের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধে হলেই রেললাইন ঘিরে মদের আসর বসে৷ আসর বসে গৌরীহাট এলাকাতেও৷ হোলির পর থেকে এলাকায় এই অবস্থা বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ তাঁদের৷ ফলে সব সময় ভয়ে থাকেন অনেক মহিলাই৷ তাঁদের আরও অভিযোগ, সম্প্রতি এক তরুণী তাঁর পরিবারের সঙ্গে এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতে এসেছেন৷ মাঝে তাঁর বাড়ির চালেও সন্ধে হতেই ঢিল ছুড়তে শুরু করে দুষ্কৃতীরা৷
এলাকার বাসিন্দা পিঙ্কি সরকার বলেন, ‘‘ক্লাবের সদস্যদের কাজ শুধু আড্ডা দেওয়া বা ঘরে বসে বসে আইপিএল দেখা নয়৷ আরও অনেক কাজ রয়েছে৷ অসামাজিক কাজ রুখতে আমরা পুরুষদের সঙ্গে নিয়ে পথে নামতে চাই৷’’ যাঁরা ক্লাবের সদস্য হতে চান তার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় মোহিতনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সাবিত্রী চক্রবর্তীও৷ তাঁর কথায়, ‘‘শুধু জোটবদ্ধ হলেই তো হবে না৷ মহিলাদের একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার৷ সে জন্যই ক্লাবের সদস্য হওয়ার আবেদন জানানো৷’’
কিন্তু এ ক্ষেত্রেও পথটা একেবারে মসৃণ ছিল ছিল না৷ কারণ মোহিতনগর ক্লাব ও পাঠাগার কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়ে দিয়েছিলেন, আগামী ১৬ এপ্রিল ক্লাবের এজিএম হবে৷ তার পরই নতুন সদস্যপদ দেওয়া হবে৷ ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সম্রাট মোদক ও মানব সরকার বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগেই ক্লাবের পুরনো কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে৷ দায়িত্বে শুধু রয়েছেন সভাপতি ও দুজন যুগ্ম সম্পাদক৷ তাই তাঁদের অনুরোধ করা হয়েছে, এজিএমের পরে সদস্যপদ নিতে৷’’
কিন্তু পরিস্থিতি যে হারে খারাপ হচ্ছে, আরও দেরি করতে নারাজ মহিলারা৷ ফলে এ বিষয়ে কী করণীয়, তা ঠিক করতে রবিবার সন্ধেয় বৈঠকে বসেন এলাকাবাসী৷ সেখানেই ঠিক হয় মহিলারা সোমবার থেকেই ক্লাবের সদস্য হতে পারেন।