প্রতীকী ছবি
একদিনে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ন’জনের করোনা ‘পজ়িটিভ’ ধরা পড়ল। গত শনিবার রাতে আক্রান্তদের খোঁজ মিলতেই হুলস্থুল পড়ে যায় প্রশাসনিক মহলে। রাতের মধ্যেই তাঁদের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করানোর তোড়জোড় শুরু হয়। অন্য দিকে, জেলায় একসঙ্গে এতজনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। কারণ, যেভাবে লকডাউন ভেঙে সামাজিক দূরত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দোকান, বাজারে মেলামেশা চলছে তাতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়বে বলে বাসিন্দাদের একাংশের ধারণা।
সূত্রের খবর, কিছু দিন আগে হরিয়ানা ও হায়দারবাদ থেকে কয়েক জন পরিযায়ী শ্রমিক এসেছিলেন। তাঁরা বাড়িতেই কোয়রান্টিনে ছিলেন। ২১ মে তাদের লালারস সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য দফতর। তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল মালদহ মেডিক্যাল কলেজে। কিন্তু মালদহ মেডিক্যালে প্রচুর নমুনা জমে যাওয়ায় সেখানে পরীক্ষা সম্ভব হয়নি। কিছু নমুনা পাঠানো হয়েছিল মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে। এ দিন রাতে সেখান থেকে রিপোর্ট আসে। এবং দেখা যায় জেলার ন’জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে আট জন হরিরামপুর ব্লকের বাসিন্দা। বাকি অন্য জন বালুরঘাট ব্লকের বাসিন্দা। এর আগে কুশমণ্ডি, কুমারগঞ্জ, গঙ্গারামপুর ও তপন ব্লক থেকে মোট সাত জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পেয়েছিল প্রশাসন। তাঁদের প্রত্যেককে বালুরঘাটের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁরা ছ’জনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। বর্তমানে এ দিনের ন’জন ও আগের একজন, মোট ১০ জন করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে খবর। এই প্রথম জেলার হরিরামপুর ও জেলা সদর বালুরঘাটে করোনার সংক্রমণ ছড়াল। বালুরঘাটের আক্রান্তের বাড়ি ব্লকের ডাঙ্গি এলাকায়। অন্য দিকে হরিরামপুর ব্লকের গোকর্ণ, বৈরহাট্টা এলাকার বাসিন্দা বাকি আক্রান্তরা।
এ দিকে, নতুন করে আক্রান্তদের খোঁজ মিলতেই প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হয়েছে। কারণ আক্রান্তরা এত দিন বাড়িতেই ছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই বাড়িতে কোয়রান্টিনের সব নিয়ম পালন হয়নি। প্রশাসনের অনুমান, তাঁদের সংস্পর্শে এসেছেন পরিবারের অনেকেই। তাঁদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আক্রন্তদের সংস্পর্শে আসা পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে তুলে এনে কোয়রান্টিন সেন্টারে আনা হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই ভাবে আদৌ কি করোনার সংক্রমণ রোখা সম্ভব। তাই আগাম সতর্কতা নিয়ে বাইরে থেকে আসা শ্রমিকদের বাড়িতে না পাঠিয়ে সংক্রমণ রুখতে নির্দিষ্ট কোয়রান্টিন সেন্টারে রাখার দাবি জোরালো হয়েছে।