দেবাংশুকে আদালতে নিয়ে গেলে সেখানেই বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান মৃত ও আহতের পরিবার। —নিজস্ব চিত্র।
বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে এক যুগলকে ধাক্কা মেরে তাঁদের বেশ কিছু দূর টেনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার চার দিন পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার আদালত চত্বরে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিজন ও স্থানীয়েরা। সিসিটিভি-তে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার পরও তাঁকে এত দিন পর গ্রেফতার করায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে চার দিনের পুলিশি হেফজতের নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি গত বুধবারের। গভীর রাতে শিলিগুড়ির সেবক রোডে রাস্তার ধারের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুগল। দ্রুতগতির চারচাকা গাড়ি ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ-তরুণীকে সজোরে ধাক্কা মারে। অভিযোগ, ধাক্কা দেওয়ার পর চালক গাড়ি না থামিয়ে দু’জনকে বেশ কিছুটা পথ টেনে নিয়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের রাস্তায় ফেলে রেখেই ঘাতক গাড়িটি চম্পট দেয়। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শঙ্কর ছেত্রী নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয় এবং তাঁর সঙ্গিনী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। শঙ্করের বাড়ি নকশালবাড়ি এলাকায় হলেও কাজের সূত্রে তিনি শিলিগুড়িতে থাকতেন। দুর্ঘটনার এই দৃশ্য ধরা পড়েছে এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায়। ফুটেজটি প্রকাশ্যে আসতেই শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার চার দিন পরেও অভিযুক্ত কেন অধরা তাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
অভিযুক্তের নাম দেবাংশু পাল চৌধুরী। প্রভাবশালী বলে পরিচয় তাঁর। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরও অন্য দিনের মতোই ঘুরে বেড়িয়েছেন দেবাংশু। কোনও প্রকার অনুশোচনা ছাড়াই প্রমাণ লোপাটে গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল শোরুমের ওয়ার্কশপে। সূত্রের খবর, পুলিশি রেকর্ডে বেপরোয়া গতির জন্য এর আগেও এই গাড়ির বিরুদ্ধে চালান রয়েছে। শুধুমাত্র গতিই নয়, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ থেকে একাধিক নিয়ম বিরুদ্ধ কার্যকলাপে দেবাংশুর গাড়ির চালানের ইতিহাস রয়েছে।
অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে চারদিনের পুলিশি হেফজতের নির্দেশ দেন। দেবাংশুকে আদালতে নিয়ে গেলে সেখানেই বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান মৃত ও আহতের পরিবার। তাঁদের বক্তব্য, প্রভাবশালী বলেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে গড়িমসি করছিল।
এ বিষয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ সিংহ বলেন, “অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।”
অন্য দিকে নিহতের পরিবারের এক সদস্য মন্নু ছেত্রী বলেন , “এটা কোনও সাধারণ মানুষ হলে পুলিশ গ্রেফতার করতে এত সময় লাগাত না। প্রভাবশালী বলেই পুলিশ গড়িমসি করছিল।”