TMC

‘চাকরি পেতে তৃণমূল নেতাকে টাকা দিয়ে সব শেষ, আত্মহত্যা করতে হবে’, পুলিশে দলীয় কর্মী

হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের তুলসীহাটায় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি মনোজের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভিঙ্গল গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈরাট গ্রামের বাসিন্দা দীপক সিংহ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২২ ২০:৩২
Share:

থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভিঙ্গল গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈরাট গ্রামের বাসিন্দা দীপক সিংহ।

পরিবহণ নিগমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন শাসক দলের এক নেতা। সেই চাকরি তো মেলেইনি, উল্টে টাকা চাইতে গেলে জুটেছে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি। জমি বেচে ওই নেতাকে টাকা দিয়ে এখন সর্বস্বান্ত। স্ত্রী ছেড়ে চলে গিয়েছেন। দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা। পরে দুরারোগ্য ব্যাধিতে তাঁর মৃত্যুও হয়। এখন সুবিচার না পেলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। এমনটা জানিয়ে মালদহের তৃণমূল নেতা মনোজ রামের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার দ্বারস্থ হলেন দলেরই এক কর্মী।

Advertisement

হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের তুলসীহাটায় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি মনোজের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভিঙ্গল গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈরাট গ্রামের বাসিন্দা তথা তৃণমূল কর্মী দীপক সিংহ। এই অভিযোগের কথা প্রকাশ্যে আসার পরেই শাসক দলকে বিঁধতে শুরু করেছে বিরোধীরা। মনোজ অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’’ অন্য দিকে, তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছেন, দল এই ধরনের কাজকে কখনওই সমর্থন করে না। কেউ দোষ করে থাকলে আইন মেনেই পদক্ষেপ করা হবে।

দীপকের অভিযোগ, ২০১৬ সালে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নেন মনোজ। সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় পরিবারের শেষ সম্বল জমিটুকু বেচে ওই টাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই চাকরি আর মেলেনি। অভিযোগকারীর দাবি, চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা। পরে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। সংসারে অনটনের জেরে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। নিজেও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

Advertisement

পুলিশকে দীপক জানান, মনোজের কাছে বার বার টাকা ফেরত চেয়েও কোনও লাভ হয়নি। দলের জেলা সভানেত্রী পদে থাকাকালীন মৌসম নুরকেও বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আর তার পর থেকেই খুনের হুমকি আসতে শুরু করে। বাধ্য হয়েই এ বার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

নিয়োগ-দুর্নীতি মামলা নিয়ে রাজ্য জুড়ে শোরগোলের আবহে ইতিমধ্যে তৃণমূলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা অভিযোগ উঠেছে। শাসক দলের একাধিক বিধায়কের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন দলের কর্মীরা। সেই তালিকায় আরও একটি সংযোজন হওয়ায় শাসক দলকে কটাক্ষ করছে বিজেপি। ঘটনাচক্রে, মালদহে যাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে, সেই মনোজ কিছু দিন আগে দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দল ছেড়েছিলেন। কিছু দিনের মধ্যেই আবার উচ্চ নেতৃত্বের মধ্যস্থতায় তিনি দলে ফিরে আসেন। তার পরেই এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসা নিয়ে উত্তর মালদহ জেলা বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে উনি (মনোজ) দল ছেড়ে ছিলেন বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। স্থানীয় কর্মীরা বাধা দেওয়ায় জেলা নেতৃত্ব ওঁকে দলে নেননি। এখন বুঝতে পারছি, তাড়াহুড়ো না করে দল ভাল করেছে। এই ভাবে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা সত্যিই লজ্জার ব্যাপার।’’

তৃণমূল অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, গরিব মানুষের টাকা নিয়ে প্রতারণা করা হয়ে থাকলে দল কখনওই তা সমর্থন করবে না। দলে রাজ্য সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেছেন, ‘‘পার্টি এই ধরনের কাজকে কখনওই সমর্থন করে না। দলের চেয়ারে বসে কেউ গরিব মানুষের থেকে টাকা তুলবে, এটা দল মেনে নেবে না। থানায় অভিযোগ হয়েছে। আইন মেনেই ব্যবস্থা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement