(বাঁ দিকে) গৌতম দেব। শঙ্কর ঘোষ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
শিলিগুড়ির নাবালিকা ছাত্রীর মৃত্যুর পাঁচ দিন পরে গ্রেফতার অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক। তার পরেই শুরু হল রাজনৈতিক তরজা। একেবারে সাংবাদিক বৈঠক করে শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে একহাত নিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বীকে উদ্দেশ্য করে তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘‘নাবালিকার মৃত্যু নিয়ে অযথা রাজনীতি করেছেন উনি।’’ অন্য দিকে, পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে দোষীর ফাঁণসি চাইলেন দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা।
গত সোমবার শিলিগুড়ির ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এক নাবালিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। পরিবার দাবি করে, গৃহশিক্ষকের প্রেমের আবেদনে সাড়া না-দেওয়ায় মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল মেয়েটিকে। তার জেরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। তবে ঘটনার পর থেকে গৃহশিক্ষকের খোঁজ মেলেনি। তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা এলাকা। শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতর। রাস্তা অবরোধ হয়। অভিযুক্তের গ্রেফতারির দাবিতে শিলিগুড়ি জংশনে ধর্নায় বসে পড়েন। গৌতম মৃতার বাড়িতে গিয়ে সেখান থেকেই শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করতে বলেছিলেন।
ঘটনাক্রমে গৃহশিক্ষকের মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। চলছিল অভিযুক্তের খোঁজ। শঙ্কর জানিয়ে দেন অভিযুক্তের গ্রেফতারি পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী প্রচার করবেন না। রবিবার গৃহশিক্ষকের গ্রেফতারির খবর পেয়ে গৌতমের কটাক্ষ, ‘‘উনি রাজনীতিই করছিলেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই ঘটনায় আমরাও যথেষ্ট সজাগ ছিলাম। আমি নিজে পুলিশ কমিশনারকে বলেছি। নাবালিকার বাড়িতে গিয়ে ওর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু নোংরা রাজনীতি করিনি। পুলিশ ভাল কাজ করেছে। তারা বাইরে থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এনেছে। আর বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ ধর্না করতে করতে রামনবমীতে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছেন! এগুলো নির্বাচন কমিশন দেখে না। অথচ তারা ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচি বন্ধ করার চিঠি পাঠায়।’’
বিজেপি সাংসদ রাজু বলেন, ‘‘পুলিশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এ বার আমি চাই আইন যাতে ওকে ফাঁসির সাজা দেয়। পাশাপাশি শঙ্করকে ধর্না তুলে নিতে বলেছি। সোমবার যে বন্ধ ডাকা হয়েছিল, তা তুলে নেওয়া হোক।’’ রাজুর এই বার্তার পরেই ধর্নামঞ্চে সাংবাদিক সম্মেলনে শংকর ঘোষ বলেন, ‘‘শিলিগুড়িবাসীকে অনেক ধন্যবাদ যে তাঁরা আমাদের পাশে ছিলেন। আমি নির্বাচনী প্রচার বন্ধ রেখেছিলাম। তবে এখন থেকে আবার প্রচার শুরু করব। অভিযুক্ত একটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বলেই এত সময় লেগে গেল তাকে ধরতে।’’
গৃহশিক্ষকের গ্রেফতারি নিয়ে শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার কাজি সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘২৩ মার্চ ঘটনাটি ঘটেছিল। তখন এক জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই জানা যায়, মূল অভিযুক্ত চেন্নাই চলে গিয়েছেন। সেখান থেকে আমাদের পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছে। অভিযুক্তের সঙ্গে আরও এক জনকে আমরা গ্রেফতার করেছি়।’’