জঞ্জাল-জটে রণক্ষেত্র আলিপুরদুয়ার

শহরের আবর্জনা কেন ফেলা হবে গ্রামে? শহরের দূষণের দায় কেন নেবেন গ্রামের বাসিন্দারা। এমন প্রশ্নেই গত কয়েকদিন ধরে তাতছিল এলাকা। শনিবার দুপুরে যেন সেই ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ ঘটল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০২:২৮
Share:

গাড়ি ভাঙচুর ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের। শনিবার নারায়ণ দে-র তোলা ছবি।

শহরের আবর্জনা কেন ফেলা হবে গ্রামে? শহরের দূষণের দায় কেন নেবেন গ্রামের বাসিন্দারা। এমন প্রশ্নেই গত কয়েকদিন ধরে তাতছিল এলাকা। শনিবার দুপুরে যেন সেই ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ ঘটল।

Advertisement

শহরের উপকণ্ঠে জেলা প্রশাসনের নির্দিষ্ট করা ভাগাড়ে আবর্জনা ফেলাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল আলিপুরদুয়ার। এক পুলিশকর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হল। ভাঙচুর করা হল এসডিপিও-র গাড়ি। খবর পেয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান আশিষ দত্ত এলাকায় না গিয়ে জঙ্গলে ময়লা ফেলে চলে যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে জেলাশাসকের দফতরের তরফে উত্তর বাইরাগুড়ি গ্রামে ডিমা নদী সংলগ্ন সরকারি জায়গা পুরভাকে ভাগাড় করার জন্য দেয় জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার পুরসভা বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে এলাকায় গেলে পুলিশের সঙ্গে জনতার ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ ছ’জনকে আটক করে। পরে ছেড়ে দেয়। শনিবার সকালে বহু পুরুষ-মহিলা ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে বাইরাগুড়ি গ্রামের রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। জড়ো করা হয় পাথর, বাঁশের লাঠি। ওই এলাকা দিয়ে সকাল ১১টা নাগাদ জয়গাঁ উন্নয়ন পর্ষদের একটি গাড়ি যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা গাড়িটি ভাঙচুর চালায়। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় এলে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়।

Advertisement

খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ গেলেই গোলমাল বাধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ডিএসপি কৌশিক বসাক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ওয়াংদেন ভুটিয়া, বিডিও প্রেমা ওয়াংদেন ভুটিয়া ও আলিপুরদুয়ার থানার আইসি দেবাশিস চক্রবর্তী বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে যান গ্রামবাসীদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে বিশাল পুলিশ বাহিনী থাকলেও বাহিনীকে দূরে রেখে আলোচনা করতে যান তাঁরা। কিছু পরেই গ্রামবাসীরা আচমকা হামলা করে পুলিশের গাড়িতে। বিডিও ও ডিএসপি দৌড়ে প্রাণ বাঁচান। বাকিরা গাড়িতে উঠে পালান। জনতার সামনে পড়ে যান ডিএসপির দেহরক্ষী মহেশ বর্মা। জনতা তাঁকে সামনে পেয়ে বেধড়ক মারধর করে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘‘বাসিন্দারা তাড়া করেন। এসডিপিও-র গাড়ির কাচ ভেঙে দেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

শুক্রবারও ময়লা ফেলতে বাধা দিয়েছিলেন বাসিন্দারা। শনিবার সকাল গ্রামে থেকেই এলাকায় উত্তেজনা থাকায় সেখানে ময়লা ফেলতে যাননি পুরসভার চেয়ারম্যান আশিস দত্ত। কাছেই বন দফতরের একটি রেঞ্জ অফিসের পাশে পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে বসেছিলেন তিনি। পরে পুরসভার ময়লা বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ফেলে পুরকর্মীরা। বন দফতর পুরসভার একটি গাড়িও আটক করে। এ দিন সংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি পুরসভার চেয়ারম্যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁদের বসবাসের লাগোয়া এলাকায় ভাগাড় করা যাবে না। কারণ তার নোংরা থেকে এলাকায় মশামাছির উপদ্রব হবে। বর্ষায় নোংরা জল নদীতে মিশে নদী দূষণ করবে। এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘আমাদের গ্রামের কাছে ভাগাড় হলে আমাদের কী হবে? পচা নোংরার জল এসে চাষের জমি দূষিত করবে। এটা আমরা মেনে নেব না।’’ তাই পরেও গোলমালের আশঙ্কা রয়েই গিয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement