(বাঁ দিকে) ধর্নায় শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক তথা প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব মৃতার পরিবারের বাড়িতে (ডান দিকে)। —নিজস্ব ছবি।
মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের মধ্যে এক নাবালিকার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে উত্তপ্ত শিলিগুড়ি। বিচারের দাবিতে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে ধর্না দিলেন এলাকার বিধায়ক তথা বিজেপিপ্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। পুলিশ কমিশনারকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলে মৃতার পরিবারের কাছে গেলেন শিলিগুড়ির মেয়র তথা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী গৌতম ঘোষ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শিলিগুড়ির ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই নাবালিকাকে বার বার প্রেমের প্রস্তাব দিতেন গৃহশিক্ষক। ওই গৃহশিক্ষক বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। নাবালিকার পরিবারের দাবি, তাঁর প্রস্তাবে রাজি হয়নি বলে ছাত্রীকে মানসিক চাপ দিচ্ছিলেন গৃহশিক্ষক। ওই চাপ সহ্য করতে না পেরে বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে মেয়েটি।
মঙ্গলবার সকালে ওই খবর ছড়িয়ে পড়়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। প্রথমে অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। তার পর শিলিগুড়ির জংশন এলাকায় অবরোধ করেন স্থানীয়েরা। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে, এই দাবিতে ধর্নায় বসেন বিধায়ক শঙ্কর। বিশ্বহিন্দু পরিষদের সদস্যেরা শিলিগুড়ির এসডিও অফিস অভিযান করেন। আবার এক বার রাস্তা অবরোধ হয়। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। বিক্ষোভকারীরা তাদের দিকে চুড়ি ছুড়ে দেন৷ পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছোয় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয় প্রশাসনকে।
অন্য দিকে, আত্মঘাতী নাবালিকার বাড়ি চলে যান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম। সেখান থেকেই তিনি শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে ফোন করে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করতে বলেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ঠিক তখনই বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক শঙ্কর রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী মমতাকে নিশানা করেছেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ এ ভাবেই বিভিন্ন বিষয়ে নিষ্ক্রীয়। তাদের নিষ্ক্রিয়তার জন্যই আজ অভিযুক্ত ফেরার। তদন্তেও গাফিলতি রয়েছে৷ আমরা একটা মেনে নেব না। তার জন্যই সমস্ত রাজনৈতিক প্রচার ছেড়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে ধর্না দিলাম। এখান থেকে আমি নড়ছি না।’’
গৌতম বলেন, ‘‘আমি এখানকার মেয়র। পুলিশকে বলেছি, এখানে কোনও রাজনীতি নয়। কে কোথায় ধর্নায় বসেছেন, তা নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। তবে পুলিশের সঙ্গে কথা বললাম। দোষীর কঠোর শাস্তি চাই।’’