পুলিশ লাঠি চালানোয় ক্ষুব্ধ বালুরঘাট

সিপিএমের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ লাঠি চালানোয় রীতিমতো ক্ষোভ ছড়িয়েছে বালুরঘাটে। সোমবার বিকেল ৪টা নাগাদ দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে জেলাশাসকের অফিসের সামনে ওই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন দলীয় কর্মী সমর্থক আহত হন বলে সিপিএমের দাবি। জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অমিত সরকারকেও লাঠিপেটা করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের কয়েকজনকে পরে চিকিৎসাও করাতে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০১৫ ০২:৫৫
Share:

লাঠিচার্জের পরে বালুরঘাটে জেলাশাসকের দফতরের চত্বর। ছবি: অমিত মোহান্ত।

সিপিএমের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ লাঠি চালানোয় রীতিমতো ক্ষোভ ছড়িয়েছে বালুরঘাটে। সোমবার বিকেল ৪টা নাগাদ দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে জেলাশাসকের অফিসের সামনে ওই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন দলীয় কর্মী সমর্থক আহত হন বলে সিপিএমের দাবি। জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অমিত সরকারকেও লাঠিপেটা করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের কয়েকজনকে পরে চিকিৎসাও করাতে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

Advertisement

ব্যস্ত রাস্তার উপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে ওই ঘটনার জের পড়ে এলাকার সাধারণ মানুষের উপরেও। পথচলতি মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকেন। পুলিশের তাড়ায় সিপিএমের মহিলাকর্মীরা রাস্তায় উপর উল্টে পড়েন। র‌্যাফ এবং কমব্যাট ফোর্সের কর্মীরা লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বিক্ষোভকরীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এল সালভে মুরাগন পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন। সদর রাস্তার যানজট ও মানুষের ভিড় হটিয়ে দেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে আজ, মঙ্গলবার জেলার প্রতিটি ব্লকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে কর্মী সমর্থকেরা মৌনমিছিল করবে বলে সিপিএম জেলা সম্পাদক নারায়ণ বিশ্বাস ঘোষণা করেন।

দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শীশরাম ঝাঝারিয়া বলেন, ‘‘ওই মিছিলে মাইক ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রধান রাস্তা অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভকারীরা জোর করে জেলাশাসকের অফিস চত্বরে ঢুকতে গেলে তাদের ঠেলে সরিয়ে দেওয়া হয়। লাঠি চালানো হয়নি।’’ পুলিশ সুপার জানান, ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশ অমান্য এবং বেআইনিভাবে রাস্তা অবরোধের মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। জেলাশাসক তাপস চৌধুরী বলেন, ‘‘প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এমনিতে ১৪৪ ধারা জারি থাকে। ওই বিক্ষোভ সমাবেশে মাইক ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। বিক্ষোভকারীরা জোর করে ঢুকতে গেলে তাদের বাধা দিয়ে পুলিশ ঠেলে সরিয়ে দেয়।’’

Advertisement

অমিতবাবুর দাবি, ‘‘চলন্ত মিছিল থেকে মাইকে স্লোগান দেওয়ার জন্য আলাদা করে অনুমতির কোনও প্রয়োজন ছিল না। পুলিশ তা আটকে দিলেও আমরা মেনে নেই। এর পর জেলাশাসকের অফিসের আগে থানা মোড়ে মিছিল এগোতে গেলে পুলিশ আটকে দেয়। সে সময় ধাক্কা দিয়ে আমাদের সরিয়ে দিয়ে আচমকা লাঠিচার্জ শুরু করে।’’ পুলিশের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়, বিক্ষোভকারীদের সরানোর সময় তাদের ফ্ল্যাগের লাঠির আঘাত তিন জন পুলিশ কর্মী অল্পবিস্তর জখম হন।

বালুরঘাটে পুলিশের লাঠিচার্জ। সোমবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

এদিন সকাল সওয়া ৬টা নাগাদ গঙ্গারামপুরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের দুই কর্মী সিপিএমের ফ্ল্যাগ ফেস্টুন ছিঁড়ে তাতে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পোড়াতে থাকে বলে অভিযোগ। সিপিএমের দাবি, সে সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে কী হচ্ছে দেখতে গেলে দলের কর্মী তথা স্থানীয় দেবীপুর প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌরপদ সরকারকে লক্ষ্য করে ওই দুজন পেট্রোল ছিটিয়ে দেশলাই জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। গৌরপদবাবু বলেন, ‘‘সে সময় বাড়ির লোকেরা চিৎকার করে আমাকে ভিতরে নিয়ে গেলে রক্ষা পাই।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক নারায়ণ বিশ্বাসের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত ওই দুই দুষ্কৃতী দলের কর্মী গৌরপদবাবুর গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। গৌরপদবাবু অবশ্য থানায় তার দিকে পেট্রোল ছিটিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ তুলে নবদ্বীপ রায় ও শঙ্কর সরকার নামে দুই তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন।

তৃণমূলের জেলা সম্পাদক বিপ্লব মিত্র বলেন, ‘‘ভোটের দিন যত কাছে আসছে, সিপিএম প্রচারে লোকজন না পেয়ে অভিনব মিথ্যা অভিযোগ তুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। গৌরপদবাবু পেট্রোল ছেটানোর অভিযোগ করলেও নারায়ণবাবু কেরোসিনের তত্ত্ব খাড়া করছেন। আসলে বাম আমলে সিপিএম যে কায়দায় আমাদের কর্মীদের উপর আক্রমণ করত, সেই কায়দায় মিথ্যা প্রচার করে পরিবেশ উত্তপ্ত করতে চাইছেন তাঁরা।’’ এই ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি থানা কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখতে বলেছি।’’

সিপিএমের নারায়ণবাবুর অভিযোগ, গঙ্গারামপুর পুরভোটকে নিরপেক্ষ করার দাবি জানাতে গিয়ে জেলাশাসকের অসৌজন্য, অশোভন ও উত্তেজনামূলক আচরণ এবং দলের তরফে বালুরঘাটে গৃহীত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর এদিন যে ভাবে আক্রমণ হল, তা নজিরবিহীন। শাসক দলের হয়ে প্রশাসন এই ভাবে দমনপীড়ন নীতি অবলম্বন করে প্রতিবাদ আন্দোলনকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। জেলা জুড়ে এর প্রতিবাদ হবে।

জেলাশাসকের বিরুদ্ধে অভব্য আচরণ এবং গঙ্গারামপুর পুরভোটের মুখে শাসক দলের সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে পূর্ব ঘোষণা মতো এদিন বালুরঘাট শহরে সিপিএমের তরফে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। প্রশাসনিক ভবনের মূল প্রবেশপথ ঘিরে থাকা পুলিশ কর্তৃপক্ষ মিছিলটিকে সেখানে থামতে দেয়নি বলে অভিযোগ। বিক্ষোভ মিছিল থেকে জেলাশাসকের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে থানা মোড়ের দিকে এগিয়ে ফের ঘুরে আসার চেষ্টা করতে পুলিশ আটকে দেয়। সিপিএম নেতা অমিতবাবু নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা এগোনোর চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে আশঙ্কা থেকে সে সময় পুলিশ লাঠি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পাল্টা প্রতিরোধের অভিযোগে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু হয় বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। লাঠির গায়ে রাস্তায় বসে পড়েন অমিতবাবু এবং দলের কর্মী কমলেন্দু সরকার। পাশেই একদল মহিলা কর্মী রাস্তার উপর উল্টে পড়ে যান। তাঁদের উপরেও লাঠি চলে বলে অভিযোগ। বালুরঘাটে এদিনের ঘটনা সম্পর্কে দক্ষিণ দিনাজপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা আইন পরিষদীয় সচিব বিপ্লব মিত্রের দাবি, ‘‘শাসক কিংবা বিরোধী যে দল হোক, নিয়মের মধ্যে আন্দোলন করা উচিত। সিপিএম জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিয়মকানুন ভুলে গিয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement