এমনই অবস্থা রূপাহার থেকে ডালখোলা রাস্তায়। — ফাইল চিত্র
মাসদুয়েক ধরে বেহাল হয়ে রয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রূপাহার থেকে ডালখোলা পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বিকল্প রাস্তা বেঙ্গল টু বেঙ্গল রোড দিয়ে যান চলাচলের উপরেও। এই অবস্থায় নিত্যদিন তীব্র যানজট হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে যাত্রী ও বাসমালিকদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সড়ক বেহাল হয়ে পড়ে থাকলেও প্রশাসনের উদাসীনতায় তা মেরামতি হচ্ছে না। তার উপর যাত্রীদের কথা চিন্তা না করে কেন বেঙ্গল টু বেঙ্গল রোড দিয়ে যাত্রীবাহি গাড়ি চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হল, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে।
এক মাস আগে করণদিঘি, চাকুলিয়া, গোয়ালপোখর ও ইসলামপুর হয়ে বেঙ্গল টু বেঙ্গল রোড দিয়ে যাত্রীবাহি গাড়ি চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। কোনও কারণে জাতীয় সড়কে যানজট থাকলে রায়গঞ্জ-শিলিগুড়ি রুটের বাস ও ট্রেকার গাড়ি ওই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করত।
জেলা পুলিশ সুপার অমিতকুমার ভরত রাঠৌরের দাবি, ‘‘বেঙ্গল টু বেঙ্গল রোড সঙ্কীর্ণ।’’ দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ওই রাস্তা দিয়ে যাত্রীবাহি গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। অভিযোগ, গত প্রায় দু’মাস ধরে রূপাহার থেকে ডালখোলা পর্যন্ত জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার একাধিক জায়গায় পিচ উঠে চষা জমির চেহারা নিয়েছে বলে অভিযোগ।
ফলে প্রতিদিনই রায়গঞ্জ, টুঙ্গিদিঘি, করণদিঘি, দোমহনা ও ডালখোলা এলাকার জাতীয় সড়কে যানজটের জেরে দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। জেলাশাসক আয়েশা রানির দাবি, ‘‘দুর্গাপুজোর আগে বৃষ্টির কারণে জাতীয় সড়ক মেরামতির কাজ ব্যাহত হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সড়ক মেরামতির কাজ করছেন।’’ দ্রুত সেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জেলা বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক প্লাবন প্রামাণিক বলেন, ‘‘প্রশাসনের গাফিলতির জেরেই দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সড়ক মেরামতি হচ্ছে না।’’ পুলিশ বেঙ্গল টু বেঙ্গল রোডে যান চলাচল নিষিদ্ধ করায় রায়গঞ্জ-শিলিগুড়ি রুটের বেহাল জাতীয় সড়কে যানজটের জেরে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে চার ঘণ্টা সময় যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
রায়গঞ্জের তুলসীতলা এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর চাকি পেশায় ডালখোলার একটি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলের আঁকার শিক্ষক। তাঁর দাবি, জাতীয় সড়ক বেহাল থাকায় বাস ও ট্রেকার অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় মাঝেমধ্যেই যানজট লেগে থাকে। মাঝেমধ্যেই বাস বিকল হয়ে ও ট্রাক উল্টে গেলে সেই যানজট তীব্র আকার নেয়। রায়গঞ্জ থেকে বাসে চেপে ৪৮ কিলোমিটার দূরের ডালখোলা যেতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগে যায় বলে জানান তিনি।
বেহাল জাতীয় সড়ক নিয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদক অপূর্ব পালের দাবি, যাত্রীদের দুর্ভোগ রুখতে দলের তরফে কিছুদিন আগে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে দ্রুত সড়ক মেরামতির দাবি জানানো হয়েছে!