—প্রতীকী চিত্র।
আগামী পাঁচ দিন উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। পাহাড়ে টানা বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই ডুয়ার্সের একাধিক নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ফলে বন্যার আশঙ্কায় দিন গুনছেন নদী-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।
তিস্তা, চেল, ঘিস, রায়ডাক, কালজানি, ডুডুয়া, জলঢাকা, গিলান্ডি, তোর্সা-সহ প্রায় সব নদীতেই জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং সমতলে বন্যার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন নদী-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে জলঢাকা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলির মানুষের রাতের ঘুম উধাও। তাঁদের কথায়, আকাশে কালো মেঘ জমলেই কিংবা বৃষ্টি শুরু হলেই নদীর পাড়ে গিয়ে জলস্তর পর্যবেক্ষণ করতে হয়। আতঙ্কে রাত কাটছে বহু পরিবারের।
বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়িতে নদীতে স্নান করতে নেমে দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী পাঁচ দিন প্রবল বৃষ্টি হলে নদীর স্রোত আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।
বাসিন্দাদের মনে এখনও তাজা গত ৫ অক্টোবরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি। সেই বন্যায় উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল এবং নাগরাকাটা-সহ একাধিক এলাকায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছিল। তাই এ বারও একই পরিস্থিতি ফিরে আসার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ।
এলাকার জনপ্রতিনিধি ও পঞ্চায়েত সদস্যেরাও প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধ দ্রুত সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি এবং আগাম ত্রাণ ও উদ্ধার ব্যবস্থা জোরদারের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নদী-সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় মাইক প্রচার করে মানুষকে সতর্ক করা শুরু হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভাবে নদীতে না নামা, নদীর ধার এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করলে বলা যায়, পাহাড়, ডুয়ার্স ও সমতলে যেভাবে টানা বৃষ্টি চলছে এবং আগামী পাঁচ দিনের জন্য অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, তাতে উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন সকলের নজর প্রশাসনের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার ওপর।
নদী-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা পার্বতী বসাক বলেন,‘‘গতবারের বন্যায় আমাদের এলাকার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এখনও সেই বাঁধ সংস্কারে কেউ উদ্যোগী হয়নি। জলঢাকা নদীতে এমনিতেই জল বেড়েছে। যদি রাত থেকে আবার মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়, তা হলে বাড়িঘর ছেড়ে আমাদের রাস্তায় আশ্রয় নিতে হবে। কতবার যে বন্যার মুখোমুখি হয়েছি, সেই ভয়েই এখন বুক কাঁপে।’’