প্রচারে বেরিয়ে কেউ ছুটলেন গ্রামের ক্লাবে। টিভির পর্দায় এক নজর স্কোরবোর্ড দেখেই ফের গাড়িতে চেপে বেরিয়ে পড়লেন। কেউ আবার মোবাইলে ফোন করেই শুনে নিচ্ছিলেন আপডেট। কেউ আবার তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরলেন। কেউ আবার প্রচারসূচিই রাখেনি। সব মিলিয়ে ভারত-বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রুদ্ধশ্বাস ক্রিকেট উন্মাদনার আঁচ এড়াতে পারলেন না কোচবিহারের যুযুধান শিবিরের প্রার্থীরা। নির্বাচনী উত্তেজনা ও ব্যস্ত প্রচারসূচির মধ্যেও যেন ঢুকে পড়লেন ধোনি বাহিনী। ভারতের জয়ে অবশ্য স্বস্তিতে সবাই।
দলীয় সূত্রেই জানা গিয়েছে, একে দিনের বেলা চড়া রোদ থাকছে, তার ওপর গ্রামগঞ্জে বাসিন্দাদের অনেকেই জমি থেকে আলু তোলার কাজে ব্যস্ত। তাই ভোটের মুখে সব শিবিরই সান্ধ্য প্রচারে জোর দিচ্ছে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে জনসংযোগ থেকে বৈঠক, কর্মিসভা, পথসভা, মিছিল সমস্ত কর্মসূচির বেশিরভাগ হচ্ছে সন্ধ্যার পরে। সেই হিসাবেই বুধবারেও ঠাসা কর্মসূচি নিয়েছিলেন যুযুধান শিবিরের প্রার্থীরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কথা জানবার পরে তাঁদের মধ্যে অনেকে সূচি বদল করেছেন। যাঁরা প্রথমে তেমন আমল দিতে চাননি, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের খবর আসতে তাঁরাও অবশ্য স্রেফ প্রচারে মনসংযোগ ধরে রাখতে পারেননি।
তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা নাটাবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বুধবার সন্ধ্যা থেকে একাধিক কর্মিসভায় যোগ দিতে কৃষ্ণপুরে যান। গাড়িতেই মোবাইলে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের টানটান উত্তেজনার হালহকিকত জেনে নিচ্ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাতেও নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। টিভির পর্দায় একঝলক ম্যাচ ও স্কোরবোর্ড দেখে নিতে স্থানীয় একটি ক্লাবে ঢুকে পড়েন। রবীন্দ্রনাথবাবু অবশ্য বলেন, “এমনিতেই ক্রিকেট আমার প্রিয় খেলা। কিন্তু ভোটের প্রচারের ব্যস্ত সূচির জন্য ঘরে বসে খেলা দেখা সম্ভব ছিল না। গাড়িতে বসে মোবাইলে খবর রাখছিলাম। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের টানে একটি ক্লাবেও ঢুকে পড়েছি। তাতে অবশ্য ভালই হয়েছে। এক সঙ্গে অনেককে পেয়ে ভোটের
আবেদনও করেছি।”
নাটাবাড়ি এলাকায় প্রচার কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন ওই কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী তমসের আলি। তিনি বলেন, “প্রচারের ফাঁকে রুদ্ধ্বশ্বাস ম্যাচ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। আমি নিজেও একাধিকবার কর্মীদের ফোন করে স্কোর জেনেছি।” বিজেপির কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী নিখিলরঞ্জন দে অবশ্য খেলার টানে ওই রাতে তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরেছেন। নিখিলবাবু জানিয়েছেন, রাত ন’টা পর্যন্ত প্রচারের সূচি ছিল। কিন্তু এমন উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচের টান এড়াতে পারিনি। কর্মীরাও অনেকে আবদার করছিলেন। তাই আগেভাগেই বাড়িতে ফিরে টিভি খুলে বসে পড়ি।
সিতাই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী কেশব রায় আবার সন্ধ্যার পরে প্রচারের সূচিই রাখেননি। কেশববাবু বলেন, “দোলের জন্য একটা ছুটির আমেজ ছিল। তার ওপর দুর্দান্ত ক্রিকেট ম্যাচ। সবাইকে ছুটি দিয়ে তাই সন্ধ্যার পর বাড়িতেই ছিলাম। উপভোগ্য ম্যাচ হয়েছে।” কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তুফানগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী শ্যামল চৌধুরী বলেন, “সন্ধ্যের পর বাড়িতেই ছিলাম। খেলার পুরোটাই দেখেছি।”
ভারতের রুদ্ধশ্বাস জয়ের আনন্দে দলের কর্মসূচি থেকে প্রচার—সর্বত্রই বৃহস্পতিবার সকলেই ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে। ভোট নিয়ে আলোচনা, বক্তব্যের মধ্যেও ক্রিকেট প্রসঙ্গ উঠতেই কর্মীদের সঙ্গে খেলার বিবরণেও আড্ডায় মাতেন অনেকে। যা দেখে কর্মীরা অনেকেই বলেন, ক্রিকেটের টান সত্যিই বড় টান।
ক্রিকেটের টানে এ দিন ভোট কর্মীরাও ছিলেন উত্তেজিত। ভোটের কাজ করার ফাঁকে অনেককেই দেখা গিয়েছে টেলিভিশনের পর্দায় ধোনিদের জয়ে মশগুল হয়ে থাকতে। অনেক ক্লাবেও এ দিন দিনভর দোলের উৎসবের পর মেতে ওঠে খেলা দেখায়। ক্লাবে টেলিভিশন সেটে ভারত-বাংলাদেশের টি টোয়েন্টি ম্যাচ শুরু হয়ে যায়। তাতে দেখা যায় বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদেরও।